গাইবান্ধায় বদলির আদেশ উপেক্ষা করে স্বপদে বহাল সেই এসিল্যান্ড

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

বদলির আদেশ জারির এক মাস পেরিয়ে গেলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন এখনো গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলাতেই স্বপদে বহাল তবিয়তে

2026-07-26T17:50:34+00:00
2026-07-26T17:52:57+00:00
 
  রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গাইবান্ধায় বদলির আদেশ উপেক্ষা করে স্বপদে বহাল সেই এসিল্যান্ড
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম  আপডেট: ২৬.০৭.২০২৬ ৫:৫২ পিএম
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন। ফাইল ছবি
বদলির আদেশ জারির এক মাস পেরিয়ে গেলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন এখনো গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলাতেই স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এমন অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা, ভূমিসেবা গ্রহীতা, রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়েছেন নিরপেক্ষ তদন্তের।

গত ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে জসিম উদ্দিনকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বদলি করা হয়। সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে অবিলম্বে বদলি কার্যকরের নির্দেশ থাকলেও, আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ২০ এপ্রিল তাকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল, যা তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে ঠেকিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।


গত ১৮ জুন সরকারি অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে, বেসরকারি টেলিভিশনের দুই সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পরই বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং ২১ জুন গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত শেষে তাকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বদলির আদেশপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার আর সেখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকে না। আগেও একবার আদেশ কার্যকর হয়নি, এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একটি প্রভাবশালী মহল বদলি ঠেকানোর চেষ্টা করছে বলে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি।’

স্থানীয় সাংবাদিক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে বিধিবিধান মেনে চলার প্রত্যাশা থাকলেও, বদলির পরও কর্মস্থল না ছাড়ায় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি, তা জনপ্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশেই বদলির আদেশ হয়েছিল, কিন্তু তা এখনো কার্যকর না হওয়ার প্রকৃত কারণ কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট করা উচিত।’


তিনি আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে এখনো তাকে অবমুক্ত (রিলিজ) করা হয়নি বলে শুনেছি। এ ব্যপারে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

অভিযোগ রয়েছে, বদলির আদেশের পর থেকে জসিম উদ্দিন অনিয়মিতভাবে অফিস করছেন এবং বেশিরভাগ সময় অফিসের বাইরে থাকায় ভূমিসেবা নিতে আসা অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর আগেও হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন।

গত ২৩ জুলাই পর্যন্তও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জসিম উদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ছুটিতে থাকায়, তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বদলির আদেশ জারি হওয়ার বিষয়টি সত্য হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার ব্যাপারটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখবে।

জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এখনো রিলিজ না দেওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনিক বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং জানান, এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে হাট-বাজার ইজারা, খাদ্য ডিলার নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া খাসজমি, নামজারি ও ভূমি প্রশাসন সংক্রান্ত কাজে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদুল্লাপুর উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। শনিবার দুপুরে তার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন এবং শিগগির আদেশ কার্যকর না হলে মানববন্ধনসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সাদুল্লাপুরবাসীর প্রত্যাশা, জসিম উদ্দিন দ্রুত বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বদলির আদেশ কার্যকর করে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের মাধ্যমে ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা, গতি ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনবে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   গাইবান্ধা  বদলি  আদেশ  এসিল্যান্ড  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: