মধ্যপ্রাচ্য থেকে কাস্পিয়ান : এক যুদ্ধের বহু রেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও সংঘাতের বিস্তার ঘটছে নতুন নতুন এলাকায়। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি

2026-07-27T08:41:53+00:00
2026-07-27T10:52:26+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্য থেকে কাস্পিয়ান : এক যুদ্ধের বহু রেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪১ এএম  আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ১০:৫২ এএম
সংগৃহীত ছবি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও সংঘাতের বিস্তার ঘটছে নতুন নতুন এলাকায়। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

টানা ১৩ রাত হামলা চালানোর পর গত শনিবার ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে হঠাৎ করে বিমান হামলা স্থগিত রাখার কারণ সম্পর্কে তারা কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

একই দিনে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায় কোনো হামলা চালায়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছিল তেহরান।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে তিনি ইরানকে দেখিয়ে দিয়েছেন, তারা আলোচনায় না এলে কী পরিণতি হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, আপাতত ইরানে সামরিক হামলা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজনের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সংঘাতের বিস্তার, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ, উপসাগরীয় মিত্রদের অসন্তোষ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হোয়াইট হাউস।


ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত থাকলেও চলতি মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে হুতিরাও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ থাকলেও শনিবার ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘর্ষে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতে শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, বিশ্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেবও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধও আবার তীব্র হতে পারে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, শনিবার সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

রয়টার্সের যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জিজানে আরামকোর শোধনাগারের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেনি আরামকো।

অন্যদিকে লোহিত সাগরতীরের ইয়ানবু তেল স্থাপনার দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি বাহিনী। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ইয়ানবু বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর।

ইয়েমেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির সৌদি-সমর্থিত সরকারের বিমানবাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দুই পক্ষই রণাঙ্গনে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে।

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা কমে গেলেও চলতি মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে হুতিরাও সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল মালিক আল–হুতি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের সব তেল স্থাপনাই এখন হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

অন্যদিকে শনিবার ইরান অভিযোগ করেছে, কাস্পিয়ান সাগরে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের ভাষ্য, এটি একটি ‘বৈরী ও অপরাধমূলক’ হামলা।

ইরানের জাহাজে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারির জন্য সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করছে, যাতে অঞ্চলটিতে তেহরানের হামলা চালাতে সুবিধা হয়।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   মধ্যপ্রাচ্য  কাস্পিয়ান  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: