দক্ষিণ আফ্রিকার দুই প্রধান শহরে পৃথক দুটি বন্দুক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর-এএফপির।
শনিবার গ্রিনিচ মান সময় ১৯টা ৩০ মিনিটের দিকে আটজন বন্দুকধারী অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে জোহানেসবার্গের পশ্চিমে একটি বারে ঢুকে গুলি চালায়। এতে ১৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনরা প্রথমে বাইরে বসে পানীয় পান করা লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে বারের ভেতরে ঢুকে গুলি করতে থাকে।
ওয়েডেলায় এ ঘটনা ঘটে। এটি ইটের তৈরি বাড়ি ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা একটি আধা-গ্রামীণ জনপদ। চারপাশে খননকাজের কারণে ক্ষতবিক্ষত বিস্তীর্ণ ভূমি রয়েছে।
পরিত্যক্ত খনি থেকে পরিচালিত অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেখানে পুলিশকে সহায়তায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অবৈধ খনন বন্ধে সরকারের চলমান অভিযানেরও কেন্দ্রবিন্দু এই এলাকা।
ঘটনাস্থলে প্রাদেশিক পুলিশের উপকমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানা বলেন, ‘অপরাধীরা মনে করছে, এটি একটি ফ্যাশন। তারা এটিকে এমন কিছুতে পরিণত করতে চায়, যার সঙ্গে আমাদের অভ্যস্ত হয়ে যেতে হবে। কিন্তু তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া বা সহ্য করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজনদের পরিষ্কার ছবি আমরা পেয়েছি। আমরা তাদের গ্রেফতার করব।’
কেকানা জানান, গত মাসের একটি ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পালিয়ে যাওয়ার আগে সন্দেহভাজনরা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, নিহতদের একজনকে গত মাসে একই পানশালায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় পুলিশ খুঁজছিল। ওই ঘটনায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছিল।
এদিকে রোববার ভোরে কেপটাউনের বাইরে একটি জনপদের বিনোদনকেন্দ্রে পৃথক বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনার আগে লোকজন নাচছে ও পানীয় পান করছে। এরপর গুলির শব্দ শুরু হলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকে।
নিহতদের পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকিরা আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ঘটনাতেই এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়নি।
আইনি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে ভরা দক্ষিণ আফ্রিকায় এসব হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশটি অব্যাহত বন্দুক সহিংসতার সঙ্গে লড়ছে। এ ধরনের সহিংসতার সঙ্গে প্রায়ই গ্যাংগুলোর বিরোধ এবং অনানুষ্ঠানিক ব্যবসাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার সম্পর্ক থাকে।
প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ৬০টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। বিশ্বে এ হার অন্যতম সর্বোচ্চ।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী ডারবানের একটি জনপদে বন্দুকধারীরা একটি বাড়ির পার্টিতে হামলা চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করে।
সহিংস অপরাধ দমনে পুলিশকে সহায়তা করতে দক্ষিণ আফ্রিকা বারবার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে।
সময়ের আলো/এসএকে