ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে কমলগঞ্জের প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো মুন্সিবাড়ি জমিদার বাড়ি। একসময়ের প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের আবাসস্থল ও পুরো এলাকার শাসনকেন্দ্রটি এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
ধারণা করা হয়, রাজা মানসিংহ রায়ের বংশধররা এখানে বসবাস করতেন। এই মুন্সিবাড়ির নামানুসারেই এলাকার নাম হয়েছে ‘মুন্সিবাজার’।
প্রাচীন স্থাপনাটিতে এখনও বড় বড় দালান, নকশা করা দেয়াল ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন চোখে পড়ে। তবে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশ ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।
একসময় এই মুন্সিবাড়ি এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল শ্রীনাথপুর, ধর্মপুর, হরিস্মরণ, দুর্গাপুর, বৃন্দাবনপুর, রামেশ্বরপুর, বলরামপুর, শ্যামের কোণা, চৈত্রঘাট, প্রতাপী, জৈগ্যশাল, জগন্নাথপুর, শ্রীগড়, রামপুর, ছয়কুট, রামচন্দ্রপুর, চণ্ডীপুর, গোবিন্দপুর, বনবিষ্ণুপুর, বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মীপুর, বিক্রমপুরসহ আরও বহু গ্রাম।
এছাড়া কালী প্রসাদ স্কুল, মুন্সিবাজার, রাজদিঘী, আহমদনগর মাদরাসা, জগন্নাথপুর নারায়ণ গোপীনাথ আখড়া, মঙ্গলচণ্ডী বাড়ি, মহেন্দ্র কুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধবপুর জোড়া মণ্ডপ, রহিমপুর ইউনিয়ন অফিস, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের দিঘি এবং মুন্সিবাজার হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও জমিদার পরিবারের অবদান রয়েছে। এমনকি কালী প্রসাদ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নামাজের জন্য মসজিদের জমিও দান করেছিলেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই ঐতিহাসিক বাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মুন্সিবাড়ির বংশধর স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নিজেরা যতটা সম্ভব দেখাশোনা করছি, কিন্তু একা আমাদের পক্ষে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে পারব।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং ইতোমধ্যে সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।’
সময়ের আলো/মহু