চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সরবরাহকৃত পানিতে বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানোর অভিযোগে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি দায়ের করে। মামলায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের কথিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ইয়াসিন বাহিনী’র প্রধান ইয়াসিনের নামও রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।
ওসি জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পের পানির ট্যাংকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিষাক্ত কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাতটার দিকে ক্যাম্পের ট্যাংক থেকে পানি পান করে ৩ পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ সদস্যরা হলেন- কনস্টেবল মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, ইয়াসির আরাফাত ও সাজ্জাদ হোসেন। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পানি গ্লাসে ঢালার সময় সদস্যরা তাতে সাদা ফেনা দেখতে পান। গুরুত্ব না দিয়ে কিছু পানি পান করার পর তারা পানিতে অস্বাভাবিক গন্ধ অনুভব করেন। কিছুক্ষণ পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্যাম্পের পানির ট্যাংকে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাম্পের জন্য পাশের একটি বাড়ি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।’
ঘটনার পর অবশিষ্ট পানি ফেলে দিয়ে ট্যাংকটি পরিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালাতে গিয়ে বাহিনীর সদস্যদের হামলার মুখেও পড়তে হয়েছিল।
সময়ের আলো/মহু