নৈশ প্রহরী থেকে হিসাবরক্ষক, ১১ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

গাজীপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের ইসিজি পরীক্ষার সরকারি ‘ইউজার ফি’ বাবদ আদায়কৃত সাড়ে ১১ লাখ টাকা সরকারি

2026-07-27T18:16:45+00:00
2026-07-27T18:18:24+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
নৈশ প্রহরী থেকে হিসাবরক্ষক, ১১ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম  আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ৬:১৮ পিএম
হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের ইসিজি পরীক্ষার সরকারি ‘ইউজার ফি’ বাবদ আদায়কৃত সাড়ে ১১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগৃহীত এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী তালুকদারের ছেলে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে পাঠানো এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালের রাজস্ব ও ইউজার ফি খাতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই পর্যন্ত ইসিজি সেবা থেকে আদায়কৃত মোট ১১ লাখ ৪৬ হাজার ১৬০ টাকা হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী ওই অর্থ চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি নিয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে সাইফুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করেন এবং অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে সম্মত হন। পরে তিনি সোনালী ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখার মাধ্যমে ১১ লাখ ৪৬ হাজার ১৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।


তদন্তে শুধু ইসিজি ফি নয়, আরও অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। অধিকতর তদন্তে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারির সময় আরটিপিসিআর ল্যাবের ইউজার ফি বাবদ ৩৪ হাজার টাকা এবং বহির্বিভাগের টিকিট ও ল্যাবরেটরি সেবার ৬ হাজার ২৭০ টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া ইউজার ফি সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা সরকারি বিধি-বিধানের পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, একটি অনিয়ম সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকতর তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। তাই সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, সিসিইউ ও আইসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিদিন শত শত রোগীর ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার বিপরীতে নির্ধারিত সরকারি ইউজার ফি আদায় করে ওয়ার্ড ইনচার্জরা হিসাব শাখায় জমা দেন। পরে সেই অর্থ সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম তা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি দায় স্বীকার করে অর্থ জমা দেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি পাস সাইফুল ইসলাম ১৯৯৭ সালের ২৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৩ সালে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট হন। ২০০৭ সালে ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হন। পরে কাজীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। সেখানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ৩ জুন তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে হিসাবরক্ষক পদে দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে ওই পদেই কর্মরত রয়েছেন।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, নৈশ প্রহরী থেকে সরাসরি হিসাবরক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই। কারণ নৈশ প্রহরী চতুর্থ শ্রেণির পদ এবং হিসাবরক্ষক দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ পদ। তবে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে বিভাগীয় বা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে হিসাবরক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত নৈশ প্রহরী থেকে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস), দপ্তরি বা রেকর্ড কিপারের মতো পদে উন্নীত হওয়া সম্ভব।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, ইসিজি ও কোভিড পরীক্ষার টাকা তখন জমা দিয়ে ছিলাম না। তদন্ত কমিটির কাছে আমি দোষ স্বীকার করেছি এবং পরবর্তীতে সমপরিমান টাকা আমি সরকারি কোষাগারে জামা করে দিয়েছি।

হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ওনার বিরুদ্ধে যখন যে অর্থ আত্মসাতের বিষয় এসেছে তখন দেখলাম বেড সাইড মানে আমাদের আন্তঃবিভাগের ভর্তি রোগীদের যে ইসিজি করা হয় সেটার যে টাকা বিভিন্ন বিভাগে ইনচার্জরা সাইফুলের কাছে জমা দেয়। কিন্তু তিনি সেটা সরকারি কোষাগারে জামা দেননি। পরে তদন্তে আরও দেখা যায় তিনি প্রায় তিন বছর ধরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা জমা দেননি। এছাড়া কোভিড পরীক্ষার টাকাও তিনি জমা দেননি। পরে আমারা ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জামা দেওয়ার ব্যবস্থা করি এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা প্রশাসনিক ভাবে চেষ্টা করছি দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   নৈশ প্রহরী  হিসাবরক্ষক  আত্মসাৎ  দুর্নীতি  ঢাকা  হাসপাতাল  গাজীপুর  হিসাব্রক্ষক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: