বর্তমান জীবনে কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ- সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন অপরিহার্য। ফলে দিনের বড় একটি সময় কেটে যায় ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে অনেকের চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এমনকি ঘুমের সমস্যাও দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে চোখের সুরক্ষার জন্য চালু করতে পারেন ৫ টি ফিচার।
ব্লু লাইট ফিল্টার বা নাইট মোড চালু রাখুন
রাতে ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের ক্লান্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ঘুমের স্বাভাবিক চক্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্ধ্যার পর থেকে ব্লু লাইট ফিল্টার বা নাইট মোড ব্যবহার করুন। এতে স্ক্রিনের রং তুলনামূলক উষ্ণ হয়, যা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে চোখকে কিছুটা আরাম দেয়।
ডার্ক মোড ব্যবহার করুন
অল্প আলোয় উজ্জ্বল স্ক্রিন চোখের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এ সময় ডার্ক মোড চালু করলে স্ক্রিনের ঝলকানি কমে এবং চোখের ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পায়। বিশেষ করে রাতে পড়াশোনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় এটি বেশ উপকারী।
অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস সক্রিয় করুন
একই মাত্রার ব্রাইটনেস সব পরিবেশের জন্য উপযুক্ত নয়। অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস চালু থাকলে আশপাশের আলোর তীব্রতা অনুযায়ী ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সমন্বয় করে। ফলে, অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা ম্লান স্ক্রিনের কারণে চোখে অস্বস্তি কম হয়।
ফন্ট ও ডিসপ্লে সাইজ প্রয়োজনমতো বাড়ান
খুব ছোট অক্ষরে লেখা পড়তে গেলে চোখকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাই ফন্টের আকার এবং ডিসপ্লে স্কেল কিছুটা বড় করে নিলে লেখা পড়া সহজ হয় এবং দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করলেও চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে না।
স্ক্রিন টাইমআউট কমিয়ে রাখুন
অনেক সময় ফোন ব্যবহার না করলেও স্ক্রিন দীর্ঘক্ষণ চালু থাকে। স্ক্রিন টাইমআউটের সময় কমিয়ে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পর স্ক্রিন নিজেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমবে, ব্যাটারিও সাশ্রয় হবে এবং চোখও কিছুটা বিশ্রাম পাবে।
শুধু ডিসপ্লে সেটিংস পরিবর্তন করলেই হবে না, ফোন ব্যবহারের মাঝেও নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন। অর্থাৎ, প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোতে ফোন ব্যবহার করুন এবং ঘুমানোর ঠিক আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে না তাকানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে চোখকে আরও সুস্থ ও আরামদায়ক রাখতে সহায়তা করবে।
সময়ের আলো/মহু