যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে খেলছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানা দুই সপ্তাহের লড়াই শেষে গত দুই-তিন দিন ধরে ইরানের আকাশ বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলার শব্দ থেকে মুক্ত

2026-07-29T01:50:24+00:00
2026-07-29T01:50:24+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে খেলছে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৫০ এএম 
প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানা দুই সপ্তাহের লড়াই শেষে গত দুই-তিন দিন ধরে ইরানের আকাশ বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলার শব্দ থেকে মুক্ত রয়েছে। কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি হননি এবং আমেরিকানদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার কোনো তাড়াহুড়ো তাদের একদম নেই। বরং নিজেদের শক্ত অবস্থানটুকু বারবার তুলে ধরছেন তেহরানের নেতারা। আইআরজিসির সামরিক কর্তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সাফল্যের বড়াই করছেন, কূটনীতিকরা ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আলোচনার জন্য ব্যাকুল’ হওয়ার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাব আসলে এমনই এক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়েও তারা বেশ স্বস্তিতে আছেন। ইরানি নেতাদের বিশ্বাস, পুনরায় শুরু হলেও লড়াই তারা ভালোভাবেই সামলে নিতে পারবেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য এখনও একই। 

হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি আদায় করা, যা মেনে নিতে এখনও প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধ বা শান্তি কোনটা আসবে কখন এই অনিশ্চয়তা ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ফিরে আসতে পারে লড়াই। স্থায়ী কোনো সমাধান এখনও অনেক দূরে। আর এর মাঝেই যুদ্ধের ক্ষতি, অবরোধ এবং অস্থিরতা ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক মুখপাত্র রমজান শরিফ বলছেন, ইরানের শত্রু প্রতিটি পদক্ষেপেই কৌশলগতভাবে পরাজিত হচ্ছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংঘাত বন্ধের বিষয়ে কিছুটা সংযত হলেও আপসের কোনো রাস্তা খুলে রাখেননি। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘এখন যা চলছে তাকে কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি বলা যায় না।’

এর আগে ওই দিনই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আলোচনার জন্য ইরানই লড়াই স্থগিত করার অনুরোধ করেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে কথাও চলছে। বাঘাই সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের এখন কোনো আলোচনাই চলছে না।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, পাকিস্তান ও কাতার মাঝেমধ্যে মধ্যস্থতা করছে।

ট্রাম্পের এই যুদ্ধকে তিনি ‘নিজেদের তৈরি এক পঙ্কিল জলাভূমি’ বলেই আখ্যায়িত করেন। তার কথায়, ইরানের আসল আলোচনা এখন ওমানের সঙ্গে চলছে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণের পর ইরান এই জলপথটিকে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল।


রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ বলছেন, ইরানিরা এখন বিশ্বাস করছেন সময় তাদের পক্ষেই আছে। তাদের ধারণা ট্রাম্পের চেয়ে কষ্ট আর চাপ সহ্য করার ক্ষমতা তাদের অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকেই তাদের দাবি মেনে নিতে হবে, আর তার জন্য ইরানকে কোনো ছাড় দিতে হবে না। তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকানদের জ্বালানি খরচ বাড়লেও সাম্প্রতিক কয়েক দিন আক্রমণ বন্ধ থাকায় দাম কিছুটা কমে এসেছে।

কিন্তু ব্রিউ সতর্ক করে দিচ্ছেন, ইরান হয়তো বেশি আশা করে বসছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে যুদ্ধ আরও বাড়ানো ট্রাম্পের কাছে অনেক সহজ পথ হতে পারে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্য দেশগুলোও ইরানের জাহাজচালিত শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা কখনোই মেনে নেবে না। 

তার মতে, শান্তি ফিরবে তখনই যদি উভয় পক্ষ মিলে প্রণালির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়। না হলে ট্রাম্প আবার বিমান হামলা শুরু করবেনই। যে হামলাকে তিনি কূটনীতির বড় হাতিয়ার মনে করেন। আর তাতে ইরানের ভাঙা অর্থনীতি ও সামরিক সামর্থ্যরে ওপর নেমে আসবে আরও ভয়াবহ আঘাত।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  ইরান  মধ্যপ্রাচ্য 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: