রংপুরে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে প্রক্সি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের চেষ্টার ঘটনায় একটি প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে এক পরীক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে, তাকে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রবেশপত্রটি জাল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। একইসঙ্গে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা আরও একজনকে আটক করা হয়।
রংপুর জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), মো. তাজমিলুর রহমান (১৯), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, কামালকাছনা কার্যালয়ের কর্মচারী মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং মো. নুরুল ইসলাম (৪৬)। তাদের মধ্যে নুরুল ইসলামকে পরে আরপিএমপির কোতোয়ালি থানার সহায়তায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ভুয়া প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম জানান, ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন বাদশা মাসউদ আলম ও নুরুল ইসলাম। এ লক্ষ্যে তিনি দিনাজপুর থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা পাঠান। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা ব্যবহার করে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য, বাদশা মাসউদ আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ ধারণা করছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। তারা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করত।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে।
রংপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
সময়ের আলো/মহু