দেশে ভিন্নমত দমন এবং ভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার পুরানো রাজনৈতিক সংস্কৃতি আবারও ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন
আয়োজনে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব মৌলিক ইস্যুতে সরকার শক্ত ভূমিকা নিলে বিরোধী দল ও জনগণ সমর্থন দিতে প্রস্তুত ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সংসদ বা জাতীয় নীতি নির্ধারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, স্বৈরাচারী সরকার দীর্ঘকাল ধরে ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ বুলি আউড়ে এবং সংখ্যালঘু কার্ড খেলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করেছিল। তাদের আমলেই সবচেয়ে বেশি জমি-মন্দির দখল ও সহিংসতা ঘটেছে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘পকেটে’ না গিয়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্রের বিপরীতে বাংলাদেশকে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সামনে একটি রোল মডেল অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের অতীতে বৌদ্ধ বিহারে হামলার বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও ১৭ কোটি মানুষের প্রত্যাশার প্রতীক ‘জুলাই সনদ’ অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সময়ের আলো/জেডি