হবিগঞ্জ, সিলেট ও কুড়িগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক ও বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জে ছাত্রদলের হামলায় এনসিপি কর্মী আলিফ চৌধুরীর চোখ হারানোর মতো গুরুতর ঘটনার পরও জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী তাৎক্ষণিক কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায়নি— এনসিপি সমর্থকদের এমন অভিযোগই মূলত এই অনলাইন বাদানুবাদের মূল অনুঘটক।
ঘটনার পরপরই ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো জোরালো প্রতিবাদ জানালেও, মূল দল জামায়াতে ইসলামী প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করে। এই বিলম্বকে কেন্দ্র করে এনসিপি সমর্থকদের একটি অংশ অভিযোগ করছেন যে, বিএনপির সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের টানাপোড়েন এড়াতেই জামায়াত কিছুটা নমনীয় ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের সমর্থকেরা পাল্টা দাবি করছেন যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা ও কর্মীর আহত হওয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে এনসিপি অন্যায্য রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক মাধ্যমে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুঙ্গে উঠলেও, বিষয়টিকে খুব একটা আমল দিচ্ছেন না দু’দলেরই শীর্ষ নেতৃত্ব।
উভয় দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্তাপ বা তর্কের ওপর ভিত্তি করে রাজনীতির মূল বাস্তবতা বিচার করা ঠিক নয়। এটি সমর্থকদের আবেগীয় প্রতিক্রিয়া মাত্র। এনসিপি নেতাদের ওপর পুলিশের বাধা কিংবা একাধিক জেলায় হামলার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে ১১ দলীয় জোটের যৌথ বৈঠক থেকেও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ফলে অনলাইনে বাকযুদ্ধ চললেও দুই দলের জোটগত ও দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কে কোনো ধরনের ফাটল ধরেনি বলেই তাদের দাবি।
সময়ের আলো/জেডি