বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার ও প্রক্সি চেষ্টার অভিযোগে দালালচক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালায় ডিবির একটি টিম। রংপুরের পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে সন্দেহ হলে আশরাফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
পরে তাকে কেন্দ্রটির একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে স্বীকার করে যে, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি ভুয়া। একই সময় তার হয়ে লিখিত পরীক্ষা দিতে আসা তাজমিলুর রহমানকেও কেন্দ্র এলাকা থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক শারীরিক বাছাইয়ের কোনো ধাপেই অংশ নেননি পরীক্ষার্থী আশরাফুল। অথচ জাল প্রবেশপত্রের ওপর ভর করে তিনি সরাসরি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, তাকে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৭ লাখ টাকার চুক্তি করে একটি প্রতারক চক্র। কামারকাছনা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ে কর্মরত বাদশা মাসউদ আলম ও নুরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়। চুক্তির প্রথম কিস্তি হিসেবে দিনাজপুরের একটি শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের মাধ্যমে তারা আড়াই লাখ টাকা লেনদেন করেন। টাকা পাওয়ার পর আশরাফুলের হোয়াটসঅ্যাপে এই জাল প্রবেশপত্রটি পাঠানো হয়েছিল।
আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মী বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ঘেঁটে অর্থ লেনদেন, প্রতারণা ও ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার সহায়তায় ঢাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি বা দালালচক্রের বিন্দুমাত্র স্থান নেই। নিরীহ চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
আটককৃত চারজনের বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি