গ্যাস সংকটে থমকে আয়ের চাকা

মেহেদী হাসান লিটন শ্রীপুর (গাজীপুর)

সারাদেশ

শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় কয়েক দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সিএনজি

2026-08-02T03:11:13+00:00
2026-08-02T03:11:13+00:00
 
  রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
গ্যাস সংকটে থমকে আয়ের চাকা
মেহেদী হাসান লিটন শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১১ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় কয়েক দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সরেজমিন উপজেলার আহাম্মদ ফিলিং স্টেশন, তৌফিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ক্যাপটেন সিএনজি, কাজী সিএনজি, পলক সিএনজি ও মফিজ সিএনজি পাম্প ঘুরে দেখা যায়- গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় প্রতিটি স্টেশনের সামনে শত শত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে। ফলে যানবাহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই রাত কিংবা ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ পাম্পে অপেক্ষা করেই নষ্ট হচ্ছে। ফলে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আয়ও কমে গেছে।

ঢাকা থেকে আসা প্রাইভেটকার চালক জালাল উদ্দীন বলেন, ভোরে উত্তরা থেকে ময়মনসিংহের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় এসেছিলাম। ফেরার পথে পলক সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছি। গ্যাস সংকটের কারণে কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হচ্ছে। এতে আয় কমে যাচ্ছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আবাসিক এলাকাতেও। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা।

শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ হাসিনা খাতুন বলেন, গ্যাসের সমস্যার কারণে রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রাতে কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় থাকে না বললেই চলে। বাধ্য হয়ে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু পাঁচ তলা পর্যন্ত সিলিন্ডার টেনে উঠানো অনেক কষ্টের।

শুধু পরিবহন ও আবাসিক খাত নয়, গ্যাস সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প-কারখানাও। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় বয়লার ও জেনারেটর স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় অটো স্পিনিং কারখানার ইউটিলিটি ম্যানেজার জাকির হোসেন খান বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় মাঝেমধ্যে জেনারেটর বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। মাস শেষে উৎপাদন কমে যায়। সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেও চাপ তৈরি হয়।


ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকার আহাম্মদ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় একটি গাড়িতে গ্যাস দিতে অনেক সময় লাগে। ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। আগে একটি গাড়িতে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার গ্যাস দেওয়া হতো, এখন সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে বিক্রিও অনেক কমে গেছে।

তিতাস গ্যাস গাজীপুর আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান জানান, গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় শ্রীপুরসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, শ্রীপুর ও মাওনা এলাকার শিল্প-কারখানাগুলোতে ধনুয়া টিবিএস (টাউন বোর্ড স্টেশন) থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এ স্টেশনে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। একইভাবে জয়দেবপুর সিজিএস-এ (সিটি গেট স্টেশন) দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সেখানে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট। 

সরবরাহ ঘাটতির কারণে টঙ্গী, জয়দেবপুর, কোনাবাড়ীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকৌশলী বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকায় শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এটি স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শ্রীপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতেও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পরিস্থিতির উন্নয়নে তিতাস গ্যাস সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন চালক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল শ্রীপুরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দ্রুত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।

সময়ের আলো/এসএকে



  বিষয়:   গ্যাস সংকট  গাজীপুর  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: