বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের পর বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন। তার ফিফার অন্যতম বড় টুর্নামেন্টগুলোর একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বাতিল হয়ে যাওয়ায়, নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রয়টার্সের তথ্যের ভিত্তিতে গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও ইনফান্তিনোর অবস্থান খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। তবে, বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং কনকাকাফ প্রকাশ্যে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে।
উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না করা হলে তাদের ৫৫ সদস্য দেশ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কট করবে।
নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএনভিবি) সভাপতি ফ্রাঙ্ক পাও বলেন, ‘এই প্রস্তাব প্রক্রিয়া, সুশাসন এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।’
পরে এএফসিও একই অবস্থান নেয়। শুধু বাইরের সংগঠন নয়, ফিফার ভেতরেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। তার শীর্ষ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এবং ফিফার অপারেশনস পরিচালক কেভিন লামুর পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগের পর লামুর বলেন, ‘একজন সভাপতির কাজ হলো সবাইকে একত্র করা, ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং অনুপ্রাণিত করা। কিন্তু এখন আমরা সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখছি। এটি ফিফার প্রকল্প নয়, ফিফা বোর্ডেরও নয়; এটি একজন ব্যক্তির প্রকল্প।’ তার এই মন্তব্য স্পষ্টভাবেই ইনফান্তিনোকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থনই যথেষ্ট। উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ যখন ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে, তখন এমন উদ্যোগ বাস্তব রূপ নিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে, অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলেও ইনফান্তিনো সঙ্গে সঙ্গে পদ হারাবেন না। কিন্তু এতে তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং নেতৃত্বের ভিত্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কানাডার ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি। ৬০ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা ২০১৬ সালের মে মাস থেকে কনকাকাফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফিফার ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর। ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বাহরাইনের শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও।
২০১৩ সাল থেকে এএফসির সভাপতির দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ সবসময় পরামর্শ, যৌথ সংলাপ এবং প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর প্রতি সম্মান বজায় রেখেই নির্ধারণ করা উচিত।’
এর আগে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। তবে পিএসজি, উয়েফার নির্বাহী কমিটি, বিইন মিডিয়া গ্রুপ এবং ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবস (ইএফসি)-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় তিনি ফিফা সভাপতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন।
সময়ের আলো/মহু