দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম সহনশীল রাখতে সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় নয় মাস বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। এর ফলে বন্দরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভারত থেকে মরিচ বোঝাই চারটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে এই আমদানি কার্যক্রমের সূচনা হয়।
আমদানিকারক করেছে রাজ এন্টারপ্রাইজ, সজীব এন্টারপ্রাইজ, আল মক্কা এন্টারপ্রাইজ ও মেহেদী এন্টারপ্রাইজ। আমদানি মূল্য প্রতি টন ৩০০ মার্কিন ডলার। প্রথম দিনে আমদানি চারটি ট্রাকে মোট ২৯ মেট্রিক টন ৪৪০ কেজি কাঁচামরিচ দেশে এসেছে। ভারতের নাসিক ও বিহার থেকে আমদানি করা হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচামরিচের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে এর সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিল। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার অনলাইন আইপি অনুমোদনের মাধ্যমে কাঁচামরিচ আমদানির সুযোগ করে দেয়।
আমদানির খবরে স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হিলি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছুদিন আগেও যে কাঁচামরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, আমদানির খবরে তা কমে বর্তমানে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আমদানিকৃত মরিচ বাজারে পুরোপুরি সরবরাহ হলে দাম আরও কমে আসবে।
সজীব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, সরকারি নিয়ম মেনে অনলাইনে আবেদন করে তারা আইপি অনুমতি পেয়েছেন। প্রথম দিনের আমদানিকৃত মরিচ বন্দরে ট্রাকসেলে বিক্রি না করে দ্রুত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে পাঠানো হচ্ছে।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন জানান, সারাদেশে মোট ৬৬টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু হিলি বন্দরের ১৬টি প্রতিষ্ঠান আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এই ১৬টি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছে এবং পরবর্তীতে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে সবশেষ গত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছিল।
সময়ের আলো/জোই