ঋণের বোঝা ও মামলার ভয়ে কমলনগরে শত শত নারী লাপাত্তা

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এবং মামলার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের শত শত নারী। ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, মাঠকর্মীদের

2026-08-03T22:17:00+00:00
2026-08-03T22:17:00+00:00
 
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ঋণের বোঝা ও মামলার ভয়ে কমলনগরে শত শত নারী লাপাত্তা
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম 
কিস্তি পরিশোধের চাপ এবং মামলার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন নারীরা। ছবি : সময়ের আলো
এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এবং মামলার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের শত শত নারী। ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, মাঠকর্মীদের নিয়মিত মানসিক নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের কারণে পরিবার-পরিজন ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কমলনগরের ৮ নম্বর চর কাদিরা ইউনিয়নের চর ঠিকা গ্রামের তারার বাপের বাড়ির কাজল রেখা, শিউলি বেগম ও রেখা বেগম, আবু কালামের বাড়ির নার্গিস বেগম, ইসমাইলের বাড়ির নাছিমা বেগম, মনিরের বাড়ির রোকেয়া বেগম এবং মজিবল হকের বাড়ির আয়শা বেগমসহ শত শত নারী বর্তমানে এলাকাছাড়া। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গেও তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, প্রিজম বাংলাদেশ, সাগরিকা, টিএমএসএস, কোডেক, গ্রামীণ ব্যাংক, সুপ্রীতি ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও ও সংস্থার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প, সাদা চেকে স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, ছবি এবং জামিনদারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধে দেরি বা ব্যর্থ হলেই মাঠকর্মীরা গ্রাহকদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং আইনি মামলার ভয় দেখান। এই মানসিক নির্যাতন ও মামলার ভয়েই ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু নারী। ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে নারী সদস্যরা এভাবে গ্রামছাড়া হওয়ায় চরাঞ্চলের পরিবারগুলোতে এখন চরম হাহাকার ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।


এ বিষয়ে বিভিন্ন এনজিওর স্থানীয় শাখা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা গ্রাহক পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। গ্রামীণ ব্যাংক (করুণানগর শাখা): কর্মকর্তা কমল জানান, চর কাদিরা ইউনিয়নে আমাদের অনেক ঋণগ্রহীতা টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমাদের অফিসের নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া তো বজায় রাখতেই হয়।

সাগরিকা এনজিওর ব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন জানান, কেবল চর কাদিরা এলাকাতেই আমাদের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন গ্রাহক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

কোডেকের মাঠকর্মী রেশমা বেগম জানান, আমি তো মাঠে আছি, গ্রাহকরা পলাতক, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা অফিসে গেলে জানাতে পারব।

টিএমএসএস’এর ম্যানেজার মো. রাকিব জানান, আমাদের অনেক গ্রাহকই পলাতক।

প্রিজম বাংলাদেশের ম্যানেজার মাহাফুজুর রহমান জানান, অনেকেই পলাতক রয়েছে, তবে বিস্তারিত জানতে আমার অফিসে আসুন।

প্রত্যাশী এনজিও কমলনগর শাখার ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, চর কাদিরা ইউনিয়নে আমাদের ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক পলাতক আছেন এবং ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে।

এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত করেনি। তবে আপনার মাধ্যমে শুনলাম, বিষয়টি আমি দেখছি।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   ঋণের বোঝা  মামলা  কমলনগর  নারী  লাপাত্তা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: