জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা

সম্পাদকীয়

মতামত

আধুনিক জীবন ও অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি প্রাকৃতিক গ্যাস। গৃহস্থালির রান্না থেকে শিল্প-কারখানার উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা থেকে পরিবহন সব ক্ষেত্রেই এর

2026-08-04T06:26:27+00:00
2026-08-04T06:26:27+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
মতামত
গ্যাসের ঘাটতি, নাগরিক ভোগান্তি
জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৬ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আধুনিক জীবন ও অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি প্রাকৃতিক গ্যাস। গৃহস্থালির রান্না থেকে শিল্প-কারখানার উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা থেকে পরিবহন সব ক্ষেত্রেই এর অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হলে থমকে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আজ দেশের বাস্তবতা হলো, গ্যাসের অভাবে আবাসিক জীবনে দুর্ভোগ বাড়ছে, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গ্যাসের অপেক্ষায় তৈরি হচ্ছে পরিবহনের দীর্ঘ সারি। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিংও তীব্র হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬২টি জ্বালানির সংকটে রয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যয়বহুল তরল জ্বালানি ও ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্র চালাতে হচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়ছে, শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। যা কি না শেষ পর্যন্ত নাগরিকদের জীবনযাত্রার খরচই বাড়াচ্ছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট। এখন সরবরাহ হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ কোটি ঘনফুট। কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহের এই হাল হয়েছে। এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ কমেছে। তবে দেশে গ্যাস সংকটের শুরুটা সেখানে নয়। এই সংকটের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা।

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমছে দীর্ঘদিন ধরেই। প্রতি বছর স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ১৫ কোটি ঘনফুট হারে কমছে। প্রয়োজনের তুলনায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কূপ খনন ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ ছিল কম। গ্যাসের চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। যে কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থার সামান্য বিঘ্নও জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থাকে সংকটে ফেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সরকার বলছে, অতীত সরকারের ভুল নীতির কারণে আজকের সংকট। যার দায় আজ বহন করতে হচ্ছে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সাধারণ ভোক্তাকে।

এটি সত্য যে, গত দেড় থেকে দুই দশকের নীতিগত ঘাটতি কয়েক মাসে দূর করা সম্ভব নয়। তবে অতীতের ব্যর্থতা তুলে ধরাই যথেষ্ট নয়। সংকট মোকাবিলায় টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল দ্রুত চালু করার চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত সচল করে শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।


সরকার নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কথাও বলেছে। নতুন কূপ খনন এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ ইতিবাচক এবং বর্তমান সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয়। এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে থাকতে হবে স্বচ্ছতা। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা জরুরি। 

পাশাপাশি এর অপচয় ও অবৈধ সংযোগ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বালানি খাতে নীতির ধারাবাহিকতা আরেকটি প্রয়োজনীয় বিষয়। নীতির ধারাবাহিকতা না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান করা কঠিন হবে। একটি জ্বালানি উৎসের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিকল্প উৎসের উন্নয়নেও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন।

দেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তার বিকল্প নেই। আজকের গ্যাস সংকট আমাদেরকে একটি সতর্কবার্তা দেয়। তাই সাময়িক সংকট কাটিয়ে ওঠাই যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির উদ্ভব না হয় সে জন্য দেশে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: