মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নাম বদল, নাউরু এখন ‘নাওয়েরো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম পরিবর্তন করেছে।

2026-08-04T16:18:35+00:00
2026-08-04T16:37:29+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নাম বদল, নাউরু এখন ‘নাওয়েরো’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৮ পিএম  আপডেট: ০৪.০৮.২০২৬ ৪:৩৭ পিএম
বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ ‘নাওয়েরো’। ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম পরিবর্তন করেছে। এখন থেকে দেশটির দাফতরিক নাম হবে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে থাকা এই প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের মতে, নতুন নামটি তাদের মাতৃভাষার প্রকৃত উচ্চারণ ও ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড এডিয়াং জানান, নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নয়। এটি তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, পূর্বপুরুষের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয় সংরক্ষণের উদ্যোগ।

ইতোমধ্যে জাতিসংঘ দেশটির নতুন নাম নথিভুক্ত করেছে। সরকারের অনুরোধে গত জুনেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাসও তাদের ওয়েবসাইটে ‘নাউরু’র পরিবর্তে ‘নাওয়েরো’ নাম ব্যবহার শুরু করেছে।

দেশটির আন্তর্জাতিক কান্ট্রি কোডও পরিবর্তন করা হচ্ছে। আগে যেখানে কোড ছিল ‘NRU’, এখন তা হবে ‘NRO’। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকদের পরিচয়ও বদলানো হয়েছে। আগে তাদের ‘নাউরুয়ান’ বলা হলেও এখন থেকে বলা হবে ‘দেই-নাওয়েরো’ (Dei-Naoero)।

সরকারের ভাষ্য, আন্তর্জাতিকভাবে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহার করা হয়েছিল মূলত বিদেশিদের উচ্চারণ সহজ করার জন্য। তবে এটি কখনোই দেশটির প্রকৃত নাম ছিল না। ‘নাওয়েরো’ই তাদের ঐতিহ্যবাহী নাম, যা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় প্রতীক ও স্থানীয় মানুষের মুখে প্রচলিত।


নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি দেশটির আইনসভায় দুই দফা ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। যদিও সংবিধানে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। শুরুতে এ বিষয়ে গণভোটের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সরকার জানায়, দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আইনপ্রণেতারা গণভোট ছাড়াই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

মাত্র ১২ হাজার জনসংখ্যার নাওয়েরো বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। ভ্যাটিকান সিটি ও টুভালুর পরই এর অবস্থান। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের এই প্রবালদ্বীপ একসময় জার্মান উপনিবেশ ছিল। পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনের অধীনে থাকার পর ১৯৬৮ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে দেশটি সমৃদ্ধি অর্জন করলেও শিল্পটির পতনের পর ১৯৯০-এর দশকে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশটির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাগরিক ও অবকাঠামো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট এডিয়াং বলেন, ‘নাওয়েরো’ নাম গ্রহণ দেশের জাতীয় গৌরব পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারের ভাষায়, এই নাম কখনো হারিয়ে যায়নি। এটি সবসময়ই দেশটির মানুষের প্রকৃত পরিচয়ের অংশ ছিল।


সময়ের আলো/এমকে


  বিষয়:   নাউরু  নাওয়েরো  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: