বিসিএসের স্বপ্ন ভেঙে বাম চোখ হারালেন জুলাইযোদ্ধা আহাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

সারাদেশ

বিসিএস ক্যাডার হয়ে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল আহাদ হুসাইনের। সেই স্বপ্ন পূরণে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ঢাকায়

2026-08-04T21:02:52+00:00
2026-08-04T21:02:52+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
বিসিএসের স্বপ্ন ভেঙে বাম চোখ হারালেন জুলাইযোদ্ধা আহাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ পিএম 
জুলাইযোদ্ধা আহাদ। ছবি : সময়ের আলো
বিসিএস ক্যাডার হয়ে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল আহাদ হুসাইনের। সেই স্বপ্ন পূরণে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ঢাকায় একটি বিসিএস কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের উত্তাল দিনে চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জীবনটাই যেন অন্যদিকে মোড় নেয়। পাঁচ দফা অস্ত্রোপচারের পরও তার বাম চোখ আজও সম্পূর্ণ অকেজো। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের পৈত্রিক জমি। তবুও ফেরেনি হারানো দৃষ্টি।

আহাদ হুসাইন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বলিয়ানপুর গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে। বিসিএসের প্রস্তুতির জন্য তিনি ঢাকার মালিবাগ এলাকায় থেকে কোচিং করছিলেন। স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট ঘোচাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ অনিশ্চয়তার মুখে।

আহাদ জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা এক দফা দাবির কর্মসূচিতে ৫ আগস্ট তিনি রামপুরা এলাকায় মিছিলে অংশ নেন। মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তার দুই চোখে আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালের শয্যায় দেখতে পান।

আহাদ বলেন, একসময় স্বপ্ন দেখতাম বিসিএস ক্যাডার হব, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাব। এখন সেই স্বপ্নের জায়গায় অনিশ্চয়তা। পাঁচবার অপারেশন হয়েছে, কিন্তু বাম চোখে আজও আলো ফিরে আসেনি। তারপরও আমি হাল ছাড়তে চাই না। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাম চোখে এখন পর্যন্ত পাঁচবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও ওষুধ বাবদ ব্যয় হয়েছে অন্তত ১০ লাখ টাকা। এই ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারের পৈত্রিক জমি বিক্রি করতে হয়েছে। পরে জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও চিকিৎসা এখনো চলমান। বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডির ভিশন আই হাসপাতালের কর্নিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান ও ডা. মাসুদ হাসানের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।


আহাদের বড় ভাই মুরাদ হোসেন বলেন, ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য যা ছিল, প্রায় সবই ব্যয় হয়ে গেছে। জমি বিক্রি করে পাঁচবার অপারেশন করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাম চোখের কর্নিয়া, লেন্স ও রেটিনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুলি চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরের একটি শিরার কাছে আটকে থাকায় তা অপসারণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবুও আমরা শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এক বছর পেরিয়ে গেলেও আহাদের জীবনে ৫ আগস্টের সেই দিনটি যেন শেষ হয়নি। হারানো দৃষ্টি, ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আর দীর্ঘ চিকিৎসার কষ্ট নিয়েই প্রতিদিন নতুন করে লড়ছেন তিনি। তবু তার বিশ্বাস একদিন হয়তো জীবন আবার নতুন আলোয় ফিরবে, যদিও সেই আলো আর বাম চোখ দিয়ে দেখা হবে না।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   বিসিএস  স্বপ্ন  চোখ  জুলাইযোদ্ধা  যশোর  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: