ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে বিতর্কে জড়ানো ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার বিধবা মা নিরাপত্তাহীনতায় ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বারবার পুলিশি তল্লাশি ও অচেনা মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে তারা নয়ডার ভাড়া বাসা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিতর্কিত মন্তব্যের পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল। তার পরিবারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদিও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে এরপরও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
কিশোরীর মা জানান, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একাই মেয়েকে বড় করছেন। সম্প্রতি বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি ও অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় তারা আতঙ্কে ভুগছিলেন। বাধ্য হয়ে নিরাপত্তার জন্য বাসা ছাড়তে হয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লির জন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আয়োজিত এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে মন্তব্য করে ওই কিশোরী। এ ঘটনায় নয়ডা পুলিশ করা জিরো এফআইআরে তার বয়স ২৫ বছর দেখানো হয়। তবে পরিবারের দাবি, তার জন্ম ২০১১ সালে এবং বর্তমানে তার বয়স ১৫ বছর।
ঘটনার পর এক ভিডিও বার্তায় কিশোরী নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়। সে জানায়, এটি তার জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল এবং বিক্ষোভস্থলের কিছু উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রভাবে এমন মন্তব্য করেছিল।
পরে মামলাটি দিল্লি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কিশোরীর বয়স ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশ একাধিক মামলা করেছে। তবে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা জানিয়েছে দিল্লি সরকার।
সময়ের আলো/এমকে