সাতক্ষীরার দেবহাটায় এক গৃহবধূর ঘর থেকে পরকীয়ার অভিযোগে শরিফুল ইসলাম মোড়লকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৯টার দিকে উপজেলার টাউনশ্রীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
শরিফুল ইসলাম মোড়ল দেবহাটা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আজিজপুর গ্রামের মোজাম্মেল মোড়লের ছেলে বলে দাবি করেছে ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের নেতৃবৃন্দ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূর সঙ্গে শরিফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। সোমবার রাতে শরিফুল ওই বাড়িতে ঢুকলে স্থানীয় জনতা ঘর ঘেরাও করে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। দেবহাটা থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে ২৯০ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন
দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদে নাম জড়ানোয় জামায়াতের প্রতিবাদ
এদিকে কিছু গণমাধ্যমে আটক শরিফুল ইসলাম মোড়লকে ‘জামায়াতের সক্রিয় কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করায় এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী। দেবহাটা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হোসেন এক প্রতিবাদ বার্তায় বলেন, আটক শরিফুল ইসলাম মোড়ল জামায়াতে ইসলামীর কেউ নন, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অসত্য তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে তার নাম জামায়াতের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রকার তথ্য যাচাই-বাছাই না করে একজন চিহ্নিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে জামায়াত কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। জামায়াতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তিতে আঘাত হানতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন, অসত্য সংবাদের সংশোধনী প্রকাশ এবং এই প্রতিবাদলিপিটি যথাযথভাবে প্রচারের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
সময়ের আলো/জোই