বগুড়ার আদমদীঘিতে খোদ খাদ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের নীতিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলতি বোরো মৌসুমে এই উপজেলায় গত ১৭ মে থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। এই অভিযানে ৩৬ টাকা কেজি দরে বোরো ধান এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে ১৪ হাজার ৭৬২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সান্তাহার সিএসডিসহ স্থানীয় এলএসডি গুদামগুলোর মাধ্যমে ১০৩টি চালকলের (মিলের) সহায়তায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী, সচল চালকলের তালিকা যাচাই করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন সাপেক্ষে চুক্তি করার বিধান রয়েছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চুক্তিভুক্ত ৮২টি হাস্কিং মিলের মধ্যে অন্তত দেড় ডজন মিল বাস্তবে সচল বা চালু নেই। এছাড়া, চাতাল পরিদর্শন করে চালের মানের প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার স্পষ্ট নিয়ম থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা না করে গুদামে বসেই নথিপত্রে স্বাক্ষর করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম দেখা গেছে সান্তাহারের বৈশাখী গ্রুপের অটোমেটিক চালকলের ক্ষেত্রে। সংগ্রহ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, সরবরাহ করা চাল একাধিকবার গুণগত মানহীন বা বিনির্দেশ বহির্ভূত হিসেবে প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট চালকলের চুক্তি ও বরাদ্দ সরাসরি বাতিল হবে। কিন্তু বৈশাখী গ্রুপের সরবরাহ করা চাল ইতোমধ্যে প্রায় ২০ বার প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও তাদের চুক্তি ও বরাদ্দ বাতিল না করে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার আবুল বাশার সমস্ত দায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (ডিসি ফুড) ওপর চাপিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, উপজেলা কর্মকর্তা থেকে লিখিত সুপারিশ না পাঠানো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে এলএসডি গুদাম কর্মকর্তা দাবি করেছেন, চাল ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে লিখিতভাবে জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
খাদ্য কর্মকর্তাদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পুরো সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই