মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর ক্ষণের অপেক্ষা শেষ হতে যাচ্ছে। ১২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় আকাশে দেখা যাবে ২০২৬ সালের প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর বিশ্বের প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এটি এবং এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর স্পেনের আকাশে দৃশ্যমান প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণের পূর্ণগ্রাস অংশ আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে পূর্ব গ্রিনল্যান্ড, পশ্চিম আইসল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব পর্তুগাল এবং উত্তর স্পেন অতিক্রম করবে। স্পেনের লেওন, বুর্গোস, ভায়াদোলিদ, সানতান্দের, বিলবাও, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া ও পালমা শহর থেকে এই বিরল দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে।
এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ডাবলিনে সূর্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ, প্যারিসে ৯২ শতাংশ এবং লন্ডনে ৯১ শতাংশ অংশ চাঁদে আচ্ছাদিত হবে। উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ এলাকায় গ্রহণটি আংশিকভাবে দৃশ্যমান হলেও তা তুলনামূলক কম হবে।
তবে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। কারণ গ্রহণটি ওই অঞ্চলে গভীর রাতের সময় ঘটবে, যখন সূর্য দিগন্তের নিচে থাকবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এ বছরের এই সূর্যগ্রহণকে বিশেষ করে তুলেছে দুটি বিষয়। প্রথমত, গ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি অবস্থানে (পেরিজি) থাকবে। ফলে চাঁদ কিছুটা বড় দেখাবে এবং পূর্ণগ্রাসের সময়ও তুলনামূলক দীর্ঘ হবে। দ্বিতীয়ত, একই রাতে আকাশে দেখা যাবে বিখ্যাত পারসেইড উল্কাবৃষ্টি, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ইএসএ ওয়েব টিভিতে সূর্যগ্রহণটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা উপভোগ করা যাবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ণগ্রাসের সময় ছাড়া কোনো অবস্থাতেই খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। গ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোলার ইক্লিপস চশমা ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস, ফিল্টারবিহীন দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ