বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিলের পরও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘিরে সংকট কাটেনি। উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এবার প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো এবং কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (কাফ)।
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন (এফএমএফ) নিজেদের আঞ্চলিক সংস্থা কনকাকাফের অবস্থান থেকে সরে এসে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মতামতের বাইরে কোনো প্রক্রিয়াকে তারা সমর্থন করবে না।
একই সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের অধীনেই বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নেয় সংস্থাটি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলও স্পষ্ট করেছে, সব সদস্য দেশের ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরানোর যেকোনো উদ্যোগ তারা গ্রহণযোগ্য মনে করে না।
এরপরই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ফিফা সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গত এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসনে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করে। তবে এএফএ স্বীকার করেছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবটি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছিল এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলও হয়েছে। তারপরও তাদের মতে, আগামী বছরের ফিফা কংগ্রেস পর্যন্ত বর্তমান নেতৃত্বের অধীনেই সংস্থার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনও ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। কাফের নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করে এবং আফ্রিকান ফুটবলের উন্নয়নে অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানায়। ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে ৫৪টি দেশই আফ্রিকার হওয়ায় এই সমর্থন আগামী নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোর জন্য বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাফ সভাপতি প্যাট্রিস মতসেপে বলেন, ফিফা যেভাবে সদস্য দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে বিতর্কের কারণগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে ফিফার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) বেশ কয়েক বছর ধরেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচক। এবার ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তুললেন সংস্থাটির প্রধান লিসা ক্লাভনেস। সাংবাদিকদের ক্লাভনেস বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিফাকে স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা প্রয়োজন, তা তার নেই। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আর পেছনে ফেরার পথ নেই।’
অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এখনও তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ফিফা প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকি বহাল রেখেছে সংস্থাটি। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও উয়েফা ও কনকাকাফের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
এদিকে ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ার পর ক্রোয়েশিয়া ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর ফিফা সদস্য দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
পাশাপাশি বিতর্কের জন্ম দেওয়া পুরো প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। আগামী মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে লড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেননি, তবু সাম্প্রতিক বিতর্ক তার পুনর্নির্বাচনের পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন করে তুলেছে।
সময়ের আলো/এসএকে