রিভার্স ভ্যাকেশনে সুযোগ-সুবিধা সীমিত থাকে। ছবি : সংগৃহীত
ছুটি বলতেই আমরা সাধারণত আরাম করে, স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সময় কাটানো বুঝি। পছন্দসই রিসোর্ট, ইনফিনিটি পুল, প্রিয় খাবার- সব মিলিয়ে কয়েকটা দিন নিশ্চিন্তে কাটানোর পরিকল্পনাই করেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে, সম্প্রতি ‘রিভার্স ভ্যাকেশন’ নামে একদম অন্য ধরনের ভ্রমণ আলোচনায় এসেছে।
রিভার্স ভ্যাকেশন মানে, ছুটিতে এমন কোনো জায়গায় যাওয়া, যেখানে নিজের বাড়ির তুলনায় সুযোগ-সুবিধা কিছুটা কম। অর্থাৎ, ভ্রমণের সময় বিলাসিতার বদলে স্বেচ্ছায় সাধারণ জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা নেওয়া।
রিভার্স ভ্যাকেশন জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিনের আরামদায়ক জীবন থেকে সাময়িকভাবে দূরে সরে গেলে, আমরা নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পাই। প্রতিদিন যেসব ছোট ছোট সুবিধাকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়, সেগুলোর মূল্যও তখন উপলব্ধি করা সম্ভব।
বেঙ্গালুরুর এসপিএআরএসএইচ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশা এই ধারণার সঙ্গে কিছুটা একমত। তার মতে, ‘নিজের সিদ্ধান্ত ও পছন্দ সম্পর্কে সচেতন থেকে কিছু সময় সহজ-সরলভাবে জীবন কাটালে প্রতিদিনের ছোট ছোট সুবিধাগুলোর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়। এতে মানসিক দৃঢ়তাও বাড়তে পারে।’
সবসময় আরাম ও আধুনিক সুবিধার ওপর নির্ভর না করলে, মানুষ নতুন কিছু শেখার সুযোগ পায়। পাশাপাশি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে, তা নিজের মতো করে সমাধান করার অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়। এতে আধুনিক জীবনের বিভিন্ন সুবিধার ওপর আমরা আসলে কতটা নির্ভরশীল, সেটিও বোঝা যায়।
ডা. আশার মতে, ‘এমন অভিজ্ঞতা মানুষকে কৃতজ্ঞ হতে শেখাতে পারে। একইসঙ্গে জীবনের সব সুযোগ-সুবিধাকে নিজের অধিকার হিসেবে ধরে নেওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে। তবে বিষয়টি কীভাবে নেওয়া হচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি এটিকে নিজেকে শাস্তি দেওয়া বা অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার বিষয় হিসেবে দেখে, তাহলে এর সুফল পাওয়া কঠিন। বরং আত্ম-পর্যালোচনা ও নিজের জীবনকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ হিসেবে দেখলেই এমন অভিজ্ঞতা কাজে আসতে পারে।’
রিভার্স ভ্যাকেশন কাটাচ্ছেন এক পরিবার। ছবি : সংগৃহীত
এ ধরনের চিন্তার সঙ্গে কিছু ট্রেন্ডেরও মিল রয়েছে। যেমন, জাপান ও থাইল্যান্ডে ‘কফিনে শুয়ে থাকার’ একটি ট্রেন্ড দেখা গিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিয়ে মানুষকে জীবনের মূল্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করা।
তবে, রিভার্স ভ্যাকেশনের অর্থ এমন কোনো জায়গায় যাওয়া নয়, যেখানে থাকা বিপজ্জনক বা অস্বাস্থ্যকর। এটি মূলত এমন পরিবেশ বেছে নেওয়া, যেখানে প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো থাকবে, কিন্তু অতিরিক্ত বিলাসিতা থাকবে না। যেমন- দূরের কোনো গ্রাম কিংবা পাহাড়ের সাধারণ হোমস্টে। সেখানে হয়ত সবসময় খাবার অর্ডার করার সুযোগ থাকবে না, কাপড় ধোয়ার সুবিধা সীমিত হতে পারে, কিংবা বাড়ির মতো আধুনিক বাথরুমও না থাকতে পারে। অল্প কিছুদিনের জন্য সহজ জীবনযাপনের এই স্বাদ মানুষের জীবনবোধে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখে।
রিভার্স ভ্যাকেশন হয়ত জীবনকে রাতারাতি বদলে দেবে না। তবে, কিছু সময়ের জন্য এই অভিজ্ঞতা আমাদের প্রতিদিনের জীবন, সুযোগ-সুবিধা ও নিজের লক্ষ্যগুলোকে নতুনভাবে দেখতে সাহায্য করতে পারে। জীবনের এই নতুন বোধই এ ভ্রমণের সার্থকতা।