কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামের এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ প্রায় অর্ধশত টুকরা করে ৯টি পলিব্যাগে ভরে বাড়ির পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নিহতের বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা বেগম ওই এলাকার ফতেহাবাদ ভুঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ফরিদা বেগম স্বামী ও সন্তানদের থেকে আলাদা ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দম্পতির দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে এবং একমাত্র ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
শনিবার সকালে ফরিদা বেগমকে বাড়িতে না পেয়ে তার স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্বজনেরা জানান, তিনি প্রতিদিন ডায়াবেটিসের কারণে সকালে হাঁটতে বের হতেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের ভাগ্নে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে তিনি প্যাকেটের ভেতর খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৯টি পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের খণ্ডাংশগুলো উদ্ধার করে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মাথা ও দুই পা এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে মারধর করে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী বেগম ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১ আগস্ট থেকে লাইলী বেগম ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। তার স্বামী আবুল কালাম চাপানগর গ্রামের বাসিন্দা ও ট্রাক্টরচালক।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাই করে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং হত্যার প্রকৃত কারণ কী, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি নিখোঁজ মরদেহের অংশ উদ্ধারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, অভিযুক্ত লাইলী বেগম ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর নিজের ভাসুর আমির হোসেনের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে যান, আমির হোসেনের ৭ বছরের শিশু কন্যা ফাহিমা আক্তারের কাছে। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে তারা শিশু ফাহিমাকে হত্যা করে কাচিসাইর ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়। এক সপ্তাহ পর ওই শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মামলা হলে লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ৬ বছর কারাভোগের কিছুদিন আগে জামিনে কারামুক্ত হয়ে তিনি চলতি মাসের ১ তারিখে নিহতের বাড়িতে বাসা ভাড়া নেন।
সময়ের আলো/জোই