লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দুস্থদের চালের কার্ড নবায়ন, নতুন কার্ড প্রদান এবং ডিলারদের ডিও বরাদ্দে ব্যাপক ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড হালনাগাদ কার্যক্রমে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সরকারের ১৫ টাকা কেজি দরের চালের মোট ৮ হাজার সুবিধাভোগী পরিবার রয়েছে। কার্ডের পৃষ্ঠা পূর্ণ হলে, তা নবায়নের জন্য খাদ্য অফিসে গেলে কার্ডপ্রতি ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মে কোনো ফি নেওয়ার বিধান না থাকলেও, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০টি কার্ড জমা নিয়ে বেআইনিভাবে এই টাকা তোলা হচ্ছে।
চর কালকিনি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী আবু ছিদ্দিক, মোহাম্মদ কামাল ও ফিরোজসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অফিসের কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী এসব টাকা নেন। তিনি দাবি করেন, এই টাকার ভাগ জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকেও দিতে হয়।
কার্ড নবায়ন ছাড়াও নতুন চালের কার্ড তৈরিতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের সময় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও এ অপকর্ম অব্যাহত রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চর কাদিরা ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হতদরিদ্রদের তালিকায় প্রবাসী ও বিত্তশালীদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনিয়মের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না চালের ডিলাররাও। চালের ডিও তুলতে প্রতি টনে ডিলারদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ২০০ টাকা নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার আফসোস করে বলেন, ‘বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়, যা পরে অন্যভাবে পুষিয়ে নিতে হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে কমলনগর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী সব অনিয়ম অস্বীকার করে বলেন, ‘কার্ড বা ডিও সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ টাকা নিলে, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন। প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেব।’
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খাদ্য বিভাগের সুনাম রক্ষায় এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সময়ের আলো/মহু