বিরল একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মানুষেরা সূর্যগ্রহণটি ভালোভাবে দেখতে পারবেন। এছাড়া আরও কিছু দেশের মানুষও আংশিকভাবে এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারবেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণটি শুরু হবে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৫ মিনিটে। পরদিন ১৩ আগস্ট রাত ১২টা ৪৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হবে এবং পরে পূর্ণ গ্রহণের সমাপ্তি ঘটবে।
১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হবে। এসময় স্পেনের বেশিরভাগ অংশসহ প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ পূর্ণগ্রাসের নিখুঁত পথ বা ‘পাথ অব টোটালিটি’র আওতায় থাকবেন।
আল জাজিরা বলছে, এই সূর্যগ্রহণের আংশিক রূপটি পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট অংশেও দেখা যাবে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ এই সূর্যগ্রহণ আংশিকভাবে হলেও দেখতে পারবেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদের আকার প্রায় সমান দেখানোর কারণেই এমন পূর্ণগ্রাস গ্রহণ সম্ভব হয়। প্রতি বছর পৃথিবীতে ২ থেকে ৫ টি সূর্যগ্রহণ (আংশিক, বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস বা হাইব্রিড) দেখা গেলেও, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশ বিরল এবং শতাব্দীতে গড়ে ৬৬ বার বা দেড় বছরে একবার ঘটে থাকে।
এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণে স্পেন, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালের কিছু অংশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ এমন স্থানে থাকবেন, যেখানে সূর্য সম্পূর্ণ ঢাকা পড়বে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব স্পেনের লিওন, ভায়াদোলিদ, জারাগোজা, তেরুয়েল এবং ভ্যালেন্সিয়ার মতো শহরগুলো পূর্ণগ্রাসের সরাসরি পথেই অবস্থিত।
স্পেনে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিট নাগাদ এই পূর্ণগ্রাস শুরু হবে এবং স্থানভেদে তা প্রায় ১১০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো বড় শহরগুলো এই বলয়ের বাইরে থাকলেও, সেখান থেকেও সূর্য প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা পড়তে দেখা যাবে।
সময়ের আলো/মহু