দেশের প্রত্যন্ত ও মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল যোগাযোগ সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে বাংলালিংক। স্টারলিংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশে প্রথম বাণিজ্যিক ডাইরেক্ট-টু-সেল বা ডিটুসি সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে অপারেটরটি।
এই প্রযুক্তির ফলে প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক না থাকলেও নির্দিষ্ট সক্ষমতার মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। শুরুতে ব্যবহারকারীরা এসএমএস এবং সীমিত গতির মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ভয়েস কল ও আরও উন্নত ডেটা সেবাও চালু করা হতে পারে।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তৈমুর রহমান জানিয়েছেন, তারা বুধবার এই সেবার জন্য লাইসেন্স পেয়েছেন এবং দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।
এর আগে বান্দরবান ও সন্দ্বীপসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই মাস ডিটুসি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সামনে এসএমএস, ইন্টারনেটভিত্তিক মেসেজিং এবং ভয়েস কলের প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
বিটিআরসি গত ৯ সেপ্টেম্বরের এক সভায় বাংলালিংকের প্রস্তাব অনুমোদন করে। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ এই উদ্যোগকে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে তিনি জানান, স্টারলিংক নিজেও সরাসরি একই ধরনের সেবা দেওয়ার আবেদন করেছিল। কিন্তু কমিশন সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি। স্থানীয় মোবাইল অপারেটরদের ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই বাংলালিংকের মাধ্যমে সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুরুতে সীমিত ডেটা ও এসএমএস
বাংলালিংক কর্মকর্তারা জানান, সেবাটির প্রথম ধাপে এসএমএস ও সীমিত ডেটা সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রচলিত ফোরজি বা ফাইভজি নেটওয়ার্কের মতো দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট শুরুতেই পাওয়া যাবে না।
এই সেবা ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সমর্থন করে এমন মোবাইল ফোন প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আকাশের দিকে পরিষ্কার দৃশ্যমানতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘন স্থাপনা, পাহাড় বা অন্য কোনো বাধা থাকা এলাকায় সেবার মান ভিন্ন হতে পারে।
জেলে ও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য সুবিধা
স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা মানুষের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় উপকূলীয় মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যাওয়া জেলে, নৌযানের কর্মী ও সামুদ্রিক শ্রমিকরা মৌলিক যোগাযোগ সুবিধা ধরে রাখতে পারবেন।
এ ছাড়া চর, দ্বীপ ও পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারাও বিকল্প যোগাযোগ সুবিধা পাবেন। যেসব এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা কঠিন, ব্যয়বহুল কিংবা ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক নয়, সেখানে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্যোগের সময়ও কাজে আসতে পারে
ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে মোবাইল টাওয়ার, ফাইবার-অপটিক সংযোগ কিংবা বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিটুসি প্রযুক্তি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে স্যাটেলাইট সেবা সচল থাকা এবং মোবাইল ফোন থেকে আকাশের দিকে পর্যাপ্ত পরিষ্কার সংযোগ থাকা প্রয়োজন হবে। তাই সব ধরনের ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে এই সেবা একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ