পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। বিদ্যালয়টি থেকে এ বছর ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও, পাস করেছেন মাত্র একজন। উত্তীর্ণ একমাত্র শিক্ষার্থী রুপসানা আক্তারেরও পরীক্ষার পরপরই বিয়ে হয়ে গেছে। এমন শোচনীয় ফলাফলে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার ১২ জন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করার কথা থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ১০ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। অথচ গত কয়েক বছরে এই বিদ্যালয়ের ফলাফল ছিল বেশ সন্তোষজনক। ২০২২ সালে বিদ্যালয়টি থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এরপর ২০২৩ সালে ৮০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৮০ দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করার ধারাবাহিকতা থাকলেও, এবার তা বড় ধরনের ভরাডুবিতে রূপ নিয়েছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা এই ফল বিপর্যয়ের পেছনে ৩ টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন- অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি, পড়াশোনায় চরম অমনোযোগিতা এবং মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়া বাল্যবিয়ে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে গত কয়েক বছরে এই বিদ্যালয়ের অর্ধশতের বেশি শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। এবারের উত্তীর্ণ একমাত্র শিক্ষার্থীসহ আরও এক পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। এমনকি আগামী বছরের সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও একজনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয় ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ১২ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৮ জন কর্মরত রয়েছেন। ১২ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১২ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন বিপর্যয়কর ফলাফল এলাকায় নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থী উপস্থিতিতে ঘাটতির পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির অভাবও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
ফল প্রকাশের পরদিন বিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে কৈফিয়ত দাবি করেন। তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম এবং অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, বাল্যবিয়ে এবং মোবাইল আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে। আগামীতে যেন এ ধরনের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নয়, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া সীমান্ত এলাকার এই নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
সময়ের আলো/মহু