গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ ঈফফাত জাহান তুলিকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাকে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখায় সিনিয়র সহকারী সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত একটি অফিসিয়াল চিঠি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। আদেশে জানানো হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ঈফফাত জাহান তুলি সুন্দরগঞ্জে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়।
গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে ১১ আগস্ট দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই অবরোধের ফলে ইউএনও কার্যালয়সহ কৃষি, প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন, মহিলা বিষয়ক, তথ্যসেবা এবং আইসিটি দফতরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।
নিয়োগে অনিয়মের সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছিলেন বিদায়ী ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি সে সময় জানিয়েছিলেন, তার জানামতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন।
পরবর্তীতে ১২ আগস্ট সকালে উপজেলা পরিষদ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের তালা খোলা পাওয়া যায় এবং সব দফতরে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন বিকেলে উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ইউএনও। এরপর ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বদলির প্রজ্ঞাপনে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ বা সাম্প্রতিক এই আন্দোলন-বিরোধের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। প্রজ্ঞাপনে এটিকে কেবল ‘জনস্বার্থের’ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই