সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা সদরের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘বিজি-৪৩০’ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী জানান, নিহত বাকি বাংলাদেশিদের মরদেহও দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের সমন্বয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে কোনো খরচ ছাড়াই মরদেহগুলো আত্রাইয়ে আনা হয়েছে।
ইউএনও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে পরিচয় যাচাই শেষে আত্রাইয়ের ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।
শুক্রবারের জানাজার আয়োজন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন করেছে বলে জানান তিনি।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। পরে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়।
তারা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার।
এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহও দেশে পৌঁছেছে।
সময়ের আলো/জেডি