বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন বাতিল করা হয়েছে। টানা সাত দিন আন্দোলনের পর গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে পদায়ন বাতিলের ঠিক আগমুহূর্তে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে অধ্যাপক আজাদের পক্ষে একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করলে শিক্ষকরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ নিয়ে ছাত্রদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের ৮ নম্বর ক্রমিকে বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে ওই কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক কারণে সেই পদায়ন বাতিল করা হলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের একদল শিক্ষার্থী অধ্যাপক আজাদকে যোগদানের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একই সময়ে বিসিএস শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অন্য একটি দল অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি বাধে। একপর্যায়ে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের মসজিদ গেট পর্যন্ত এসে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম কার্যালয়ের সামনে হৈচৈ ও হট্টগোল দেখে গাড়ি নিয়ে দ্রুত চলে যান। এ সময় ছাত্ররা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কলেজের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অধ্যাপক আজাদ ইসলামের ইতিহাস বিভাগের একটি কক্ষে ঢুকে ছাত্রদের উত্তেজিত করে তোলেন। মূলত ওই ছাত্ররাই পরে প্রশাসনিক ভবনে এসে বিক্ষোভ করেন।
আন্দোলনরত কলেজের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিল না, বরং ক্যাডার সার্ভিসের মর্যাদা রক্ষার্থে এই আন্দোলন করা হয়েছে। অধ্যাপক আজাদ ১০ শতাংশ কোটায় আসা নন-ক্যাডার শিক্ষক ছিলেন। তারা ক্যাডারভুক্ত কলেজে প্রশাসনিক পদে নন-ক্যাডার পদায়নের প্রতিবাদে ২০১৭ সাল থেকেই আন্দোলন করে আসছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার থেকে বিএম কলেজের বিসিএস শিক্ষকরা কলেজটিতে উপাধ্যক্ষ পদে নন-ক্যাডার শিক্ষককে পদায়নের প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। তারা গত ছয় দিন ধরে পদায়নপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে যোগদানে বাধা দিয়েছিলেন।
সময়ের আলো/জোই