মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর শেখপুর বাঁশকান্দি গ্রামের হাবিবুর রহমানের পরিবার টানা চার বছর ধরে বিদ্যুৎহীন জীবন কাটাচ্ছে। বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও প্রতিবেশীর বাধার কারণে সংযোগ নিতে পারছেন না তারা। ফলে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই মোমবাতি আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার্থী উম্মে হানিকে।
উম্মে হানি সরকারি বারহামগঞ্জ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সামনেই তার এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সময়েও বিদ্যুৎবিহীন ঘরে কাটছে তার রাত। কখনো মোমবাতির ক্ষীণ আলো, আবার কখনো মোবাইল ফোনের টর্চ— এভাবেই চলছে তার পড়াশোনা।
পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। মা সেলিনা বেগম একটি মাদরাসায় রান্নার কাজ করে সংসার চালান। বাবা হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি পরিবারের বড় বোন হাজেরা আক্তারও রয়েছেন। নিজের পড়াশোনার খরচ মেটাতে কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনিও করেন উম্মে হানি।
পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির পাশেই বিদ্যুতের খুঁটি থাকা এবং আশপাশের প্রায় সব বাড়িতে সংযোগ থাকলেও দীর্ঘ চার বছর ধরে তাদের বাড়ি অন্ধকার। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বাবুল বেপারী নামের এক প্রতিবেশী সংযোগে বাধা দিয়ে আসছেন।
উম্মে হানির কলেজের প্রভাষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া একটি পরিবার বছরের পর বছর বসবাস করছে, এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিশেষ করে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত পরিবারটির বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
উম্মে হানির এক সহপাঠী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে অল্প সময় থাকতেই আমাদের কষ্ট হয়। অথচ উম্মে হানি বছরের পর বছর গরম ও অন্ধকারের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এক প্রতিবেশী জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে উম্মে হানিকে মোমবাতি ও মোবাইলফোনের আলোয় পড়াশোনা করতে হয়। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক এবং দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
উম্মে হানি বলেন, প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করা অত্যন্ত কষ্টকর। আমি পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তাই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবচর কার্যালয়ের ডিজিএম অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। পরিবারটি যদি সত্যিই বিদ্যুৎ ছাড়া বসবাস করে থাকে, তবে আমরা দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করব।
বাড়ি থেকে মাত্র ৩০ ফুট দূরে বিদ্যুতের খুঁটি থাকার পরও কেন একটি পরিবারকে চার বছর ধরে বিদ্যুৎহীন থাকতে হবে— এই প্রশ্ন স্থানীয়দের মুখে মুখে। বিশেষ করে একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পড়াশোনায় এমন পরিস্থিতি তার ভবিষ্যতের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করবে— এমনটাই প্রত্যাশা উম্মে হানির পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর।
সময়ের আলো/জোই