প্রেমের চিঠি লেখেনি, এমন মানুষ কমই আছে। পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিরাও তাদের প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছে চিঠি লিখে জানিয়েছেন মনের কথা। তেমনই কিছু চিঠি পড়ে নেওয়া যাক বিশ্ব চিঠি দিবসে-
স্ত্রী ক্লেমিকে লেখা উইনস্টন চার্চিলের প্রেমপত্র
আমার প্রিয় ক্লেমি,
আমার মন পড়ে রয়েছে মাদ্রাজের ছোট্ট এক টেবিলে, যেখানে বসে বসে তুমি গত পত্রখানায় লিখেছ যে, আমি নাকি তোমার জীবনকে আলোকিত করেছি। চিঠিখানা পড়ে নির্বাক আমি বসে রইলাম কিছুক্ষণ। একমাত্র আমিই জানি, তোমার কাছে আমি কতটা ঋণী। আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে, তার সবটাই তো তোমারই দান। কত ঝড় এলো জীবনে। কিন্তু তুমিই আমার শিখিয়েছ কী করে ঝড়ের রাতেও রত্ন কুড়াতে হয়। সব ঝড়ের রাতে কুড়ানো রত্ন জমিয়ে রেখেছি ক্লেমি তোমায় দেবো বলে। কবে আবার দেখা হবে আমাদের? তোমার স্মৃতি আর ভালবাসা নিয়েই আমার বেঁচে থাকার প্রতিটি নিঃশ্বাস পড়ে। কখনো বদলে যেওনা যেন।
একান্তই তোমার চার্চিল
ফেনি ব্রাউনীকে দেওয়া জন কিটসের প্রেমপত্র
আমার মিষ্টি ভালোবাসা,
আগামীকাল তোমার মোহনীয় মুখখানা দেখার পূর্ব মুহূর্তের প্রতিটি সেকেন্ড যেন এক একটি যুগের অপেক্ষার মতোই ধৈর্য্য পরীক্ষা। তোমার সৌন্দর্যের আবছায়া যেন আমার অনুভবেই গড়া। তোমার ভালোবাসার আবেশ যেন আমার সমস্ত হৃদয়কেই চুরি করা।
আমার প্রিয় ফেনি, ভালোবাসা রইলো।
তোমারই জে. কে.
তেরেসাকে দেওয়া কবি লর্ড বায়রনের প্রেমপত্র
প্রেমময়ী,
আমি তোমার মনের বাগানে ঘুরে ঘুরে তোমারই অনুভূতির ডানায় চড়ে বেড়িয়েছি। কারণ আমি তোমায় ভালোবাসি, আমি বুঝে নিয়েছি তোমার বাগানকোণে আমার প্রতি জমানো তোমার ভালোবাসা। শুধু মুখের আগল খুলে একবার বলো, আমায় ভালোবাসো! সে কথা শোনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি।
তোমারই প্রিয়
প্রেমিকাকে লেখা বেটোফেনের প্রেমপত্র
আমার দেবী,
গভীর দুঃখ আর না পাওয়ার বেদনার মাঝেই যদি থাকে প্রেমের সফলতা, তবে নিশ্চয় আমাদের প্রেম সফল। না দেখার কষ্ট, বিরহের যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই যে নেই তোমার-আমার মাঝে। প্রতিনিয়ত সুরের মাঝে তোমাকেই খুঁজে বেড়াই। কিন্তু হায়! অপ্রাপ্তি তো আর প্রাপ্তি হয়ে ধরা দেয় না! প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে আনন্দ খুঁজি। কিন্তু তোমার ধ্যান, সব দর্শনই মিছে মনে হয় যখন মনে পড়ে দিন শেষে আমরা রয়ে যাব যে যার মতো নিবাসে।
দেবী, তুমি কেবল আমারই দেবী, এই জন্মে না হলেও পরজন্মে মিলন আমাদের হবেই। এই তো আর কটা দিন অপেক্ষা মাত্র। তুমি সাহসী না হলে, আমি সাহস করব কোথা হতে?
ইতি
তোমারই বেটোফেন
জোসেফিনকে লেখা নেপোলিয়নের প্রেমপত্র
আমার জোসেফিন,
গতকাল সারাটি বিকেল কাটিয়েছি তোমার পোর্ট্রেটের দিকে চেয়ে থেকেই। কী করে পারো তুমি বলোতো এই কঠোর মনের যোদ্ধার চোখেও জল আনতে? আমার হৃদয় যদি একটি পাত্র হয়, তবে সেই পাত্রে ধারণ করা পানীয়ের নাম দুঃখ। তুমি কি তা বোঝো জোসেফিন? আবার কবে তোমার আমার দেখা হবে? সে অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতেই চায় না! সে অপেক্ষায়…
তোমারই
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
সময়ের আলো/মহু