নারিকেল আমাদের কাছে ভীষণ পরিচিত ও পছন্দের একটি পরিচিত ফল। নারিকেল যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফলটির গুরুত্ব অনেক।
প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষিদের উৎসাহিত করা, এ ফলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং নারিকেলের নানা ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে জানানোই দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য।
মানুষের সঙ্গে নারিকেলের সম্পর্ক বহু প্রাচীন। ধারণা করা হয়, অন্তত ২ হাজার বছর ধরে মানুষ খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে। নারিকেলের আদি উৎস নিয়ে মতভেদ থাকলেও, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে এই ফলের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। পরে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যাতায়াত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারিকেলও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১৬ শতকের দিকে ইউরোপেও নারিকেল পরিচিতি লাভ করে। ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই গ্রীষ্মমণ্ডলীন ফল পৌঁছে যায় পৃথিবীর নানা প্রান্তে।
নারিকেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে গঠিত হয় এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি বা এপিসিসি। নারিকেল উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংস্থাটি কাজ করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস।
বাংলাদেশে গরমের দিনে ডাবের পানি অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক, এর নরম শাঁসও বেশ জনপ্রিয়। অন্যদিকে, পাকা নারিকেল ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রান্না ও মিষ্টান্নে। নারিকেলের দুধ দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের খাবার। এ ছাড়া নারিকেল তেল রান্না, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।
শুধু ফল বা তেলেই নারিকেলের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নয়। নারিকেলের ছোবড়া ও খোল থেকেও তৈরি করা যায় নানা প্রয়োজনীয় জিনিস। দড়ি, মাদুর, জ্বালানি ও বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরিতে এসব উপকরণ কাজে লাগে। অর্থাৎ, নারিকেলগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কোনো না কোনোভাবে মানুষের উপকারে আসে।
পুষ্টির দিক থেকেও নারিকেল গুরুত্বপূর্ণ। নারিকেলের শাঁসে চর্বি, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। অন্যদিকে, ডাবের পানিতে থাকে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে ফলটি খাওয়া ভালো।
সময়ের আলো/মহু