ওয়াক্সিংয়ের সঠিক যত্ন

নিবেদিতা দাস

ফিচার

মসৃণ ও কোমল ত্বকের জন্য ওয়াক্সিং এখন সৌন্দর্যচর্চার নিয়মিত অংশ। হাত-পা, আন্ডারআর্ম কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে

2026-09-01T21:16:10+00:00
2026-09-01T21:16:10+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিচার
ওয়াক্সিংয়ের সঠিক যত্ন
নিবেদিতা দাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মসৃণ ও কোমল ত্বকের জন্য ওয়াক্সিং এখন সৌন্দর্যচর্চার নিয়মিত অংশ। হাত-পা, আন্ডারআর্ম কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে অনেকেই ওয়াক্সিং বেছে নেন। তবে শুধু লোম তুলে ফেললেই সৌন্দর্যচর্চা শেষ নয়। ওয়াক্সিংয়ের আগে ত্বককে প্রস্তুত করা, সঠিকভাবে ওয়াক্স করা এবং পরে ত্বকের যত্ন নেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অসচেতনতায় মসৃণ ত্বকের বদলে দেখা দিতে পারে লালচে ভাব, জ্বালা, র‌্যাশ, ছোট ছোট দানা কিংবা ইনগ্রোন হেয়ার।

ওয়াক্সিংয়ের আগে ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা জরুরি। ত্বকে তেল, ঘাম, লোশন বা ভারী কোনো প্রসাধনী থাকলে ওয়াক্স ঠিকভাবে লোম ধরতে পারে না। তাই ওয়াক্সিংয়ের আগে অল্প ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

Advertisement
ওয়াক্সিংয়ের একেবারে আগে ত্বকে স্ক্রাব করা ঠিক নয়। এতে ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। তবে নিয়মিত, মৃদু এক্সফোলিয়েশন ইনগ্রোন হেয়ার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। ওয়াক্সের তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গরম ওয়াক্স ত্বকে পোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। পার্লারে ওয়াক্স করালে প্রশিক্ষিত কর্মীর কাছ থেকেই সেবা নেওয়া ভালো।

বিউটি এক্সপার্ট জান্নাতুল ফেরদৌস অথোরার মতে, ‘ওয়াক্সিংকে শুধু লোম অপসারণের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে হবে না। ত্বকের ধরন বুঝে উপযুক্ত ওয়াক্স নির্বাচন এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। ওয়াক্সিংয়ের আগে ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা এবং পরে ত্বককে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়া উচিত।’

ওয়াক্সিংয়ের পর ত্বক কিছু সময়ের জন্য সংবেদনশীল থাকে। তাই সঙ্গে সঙ্গে গরম পানি, স্টিম বাথ কিংবা অতিরিক্ত ঘাম হয় এমন ব্যায়াম এড়িয়ে চলা ভালো। ওয়াক্স করা অংশে কয়েক ঘণ্টা ভারী সুগন্ধিযুক্ত ক্রিম, পারফিউম বা অ্যালকোহলযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করাই নিরাপদ।


ত্বকে জ্বালা বা হালকা লালচে ভাব দেখা দিলে ঠান্ডা কমপ্রেস দেওয়া যেতে পারে। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু, সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। বাইরে বের হলে ওয়াক্স করা ত্বক রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি। সব ত্বকের জন্য একই ধরনের ওয়াক্স বা একই রুটিন উপযুক্ত নয়। সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত গরম ওয়াক্স, সুগন্ধিযুক্ত পণ্য বা ঘন ঘন ওয়াক্সিং সমস্যা বাড়াতে পারে। শুষ্ক ত্বকে ওয়াক্সিংয়ের পর ময়েশ্চারাইজিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ব্রণপ্রবণ বা অত্যন্ত সংবেদনশীল ত্বকে মুখে ওয়াক্স করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ডার্মাটোলজিস্ট ডা. ইরফান উল্লাহ সাকিব বলেন, ‘ওয়াক্সিংয়ের ফলে সাময়িকভাবে ত্বকে লালচে ভাব বা জ্বালা হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে ফলিকলের প্রদাহ, ইনগ্রোন হেয়ার বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। তাই ত্বকে আগে থেকেই কোনো সমস্যা থাকলে সেটি বিবেচনা করে ওয়াক্সিং করা উচিত। অস্বাভাবিক ফোলা, তীব্র ব্যথা, পুঁজ বা দীর্ঘস্থায়ী র‌্যাশ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।’

ওয়াক্সিংয়ের ক্ষেত্রে পার্লারের পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াক্স, স্প্যাচুলা, তোয়ালে এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পরিষ্কার কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী হলে তা পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ওয়াক্সিং করলে ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

মসৃণ ত্বক পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক। তবে সৌন্দর্যচর্চার প্রতিটি ধাপেই ত্বকের স্বাস্থ্যের কথা মনে রাখা দরকার। সঠিক প্রস্তুতি, নিরাপদ ওয়াক্সিং পদ্ধতি এবং পরবর্তী যত্ন অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। কারণ সুন্দর ত্বক মানে শুধু লোমমুক্ত ও মসৃণ ত্বক নয় সুস্থ ত্বকও।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   ওয়াক্সিংয়  যত্ন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: