চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিরিয়ানি খেয়ে শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জন অসুস্থ হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আলমডাঙ্গা থানা-সংলগ্ন হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে খাওয়ার পর রাত থেকেই তাঁদের বমি, তীব্র পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে আলমডাঙ্গার হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে পৃথক সময়ে বিরিয়ানি কিনে বাড়ি নিয়ে যান তাঁরা। রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাত ১২টার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার তাঁদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
অসুস্থরা হলেন—আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের ফারুকের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৭) ও তাঁদের দুই সন্তান তাওহিদ (২) ও তাওসিফ (৮); জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামের জিনারুল ইসলাম (৪৬), তাঁর স্ত্রী পান্না খাতুন (৪২) ও ছেলে সাহেদ (১৩); চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের জাহিদ হোসেনের স্ত্রী (৩৫) ও তাঁর মেয়ে জান্নাতুল শ্রাবণী (১৫); এবং তাঁদের আত্মীয় জিহাদ আলীর স্ত্রী সুবর্ণা খাতুন (২১)।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, ‘অফিস শেষে হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে আসি। রাতে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান বিরিয়ানি খায়। রাত ১২টার পর থেকেই তারা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়। পরদিন সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘যারা বিরিয়ানি খেয়েছে, তারাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এসেছে। আমার ধারণা, খাবারে কোনো সমস্যা ছিল। বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় হাজী বিরিয়ানি হাউজ থেকে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে বাসায় যান। পরিবারের তিনজন মিলে বিরিয়ানি খাওয়ার পর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তীব্র পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া শুরু হলে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে হাজী বিরিয়ানি হাউজের মালিক মিজানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, আলমডাঙ্গা থেকে শিশুসহ ৯ জন বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরিয়ানি খাওয়ার পরই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সময়ের আলো/এসএকে