প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে ডার্ক ম্যাটার মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য। আলো শোষণ, নির্গমন বা প্রতিফলন না করায় সরাসরি দেখা যায় না এই অদৃশ্য পদার্থকে। এবার এর সন্ধানে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত পেয়েছেন ছয় দেশের ২৫০ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ডাকোটায় মাটির প্রায় এক মাইল গভীরে স্থাপিত লাক্স-জেপলিন ডিটেক্টর থেকে সংগৃহীত প্রায় দুই বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি অস্বাভাবিক কণার মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। ১০ টন অতি-বিশুদ্ধ তরল জেনন থাকা এই যন্ত্রে কোনো অজানা কণা জেনন পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শনাক্ত হওয়া সংকেতটি ডার্ক ম্যাটারের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে গবেষকেরা এখনই এটিকে ডার্ক ম্যাটারের আবিষ্কার বলতে নারাজ। কারণ এ পর্যন্ত মাত্র একটি সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও তথ্য ও পরীক্ষার প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী স্যাম এরিকসন বলেন, বিজ্ঞানীরা প্রায় এক শতাব্দী ধরে ডার্ক ম্যাটারকে আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করে আসছেন। এই পদার্থ মহাবিশ্বের পদার্থের বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে। নতুন বিশ্লেষণে আমরা যা পর্যবেক্ষণ করেছি, তা কণা হিসেবে ডার্ক ম্যাটারকে বোঝার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট ভরের প্রায় ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার এবং মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই অদৃশ্য পদার্থ দিয়ে গঠিত। নতুন সংকেতটি নিশ্চিত হলে মহাবিশ্বের এই রহস্যময় উপাদান সম্পর্কে বোঝাপড়ায় বড় অগ্রগতি হতে পারে।
সূত্র : ডেইলি মেইল
সময়ের আলো/এমকে