বাংলাদেশ জাতীয় দলের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা সামিত সোম নতুন ক্লাবে নিজের আগমনের জানান দিলেন দারুণ পারফরম্যান্সে। নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই বক্স-টু-বক্স ভূমিকায় নজর কেড়েছেন এই মিডফিল্ডার। তার জোড়া অ্যাসিস্টে ফোর্ট ওয়েন এফসিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে নিউইয়র্ক কসমস।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের সাবেক ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন সামিত। ম্যাচজুড়েই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় রক্ষণেও নেমেছেন তিনি।
প্রথম গোলের আগে ৪৪ মিনিটে সামিতের বাড়ানো দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে নিউইয়র্ককে এগিয়ে দেন লামিন জাওনে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আজমীর স্পেংলারের পাস থেকে সেরহিও চাভেজ গোল করলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কসমস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়ায় নিউইয়র্ক। ৪৭ মিনিটে স্পেংলারের সহায়তায় গোল করেন সেবাস্তিয়ান গুয়েনজাত্তি। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফোর্ট ওয়েন। ৬৬ মিনিটে রায়ান বেচার গোল করে ব্যবধান কমালে ম্যাচে ফেরার আশা দেখায় স্বাগতিকেরা।
তবে সেই আশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি সামিত। মাত্র পাঁচ মিনিট পর জাওনের সঙ্গে দারুণ সমন্বয় করে আবারও তাঁকে দিয়ে গোল করান বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টে দলের জয় নিশ্চিত করার পথে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
পরিসংখ্যানেও সামিতের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ছাপ স্পষ্ট। ম্যাচে ৪৭ বার বল স্পর্শ করে ৩৮ পাসের মধ্যে ৩১টি সফল করেছেন তিনি। ফাইনাল থার্ডে দিয়েছেন সাতটি পাস। পাঁচটি লং পাসের চারটিই ছিল সফল। পাশাপাশি তৈরি করেছেন দুটি বড় গোলের সুযোগ।
রক্ষণেও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন না ২৯ বছর বয়সী সামিত। জিতেছেন তিনটি ট্যাকল এবং করেছেন দুটি বল রিকভারি। জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে জনপ্রিয় ফুটবল অ্যাপ ফটমবের কাছ থেকে পেয়েছেন ৮.৬ রেটিং।
নতুন ক্লাবে প্রথম ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্স সামিত সোমকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে আসন্ন আসিয়ান কাপের আগে জাতীয় দলের মাঝমাঠে তার এই ছন্দ নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর।
সময়ের আলো/টিকে