সাম্প্রতিক সময়ে কুড়িগ্রামে একাধিক স্থানে সার বিতরণ নিয়ে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিতরণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কৃষকদের এই সুবিধাকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এই সুবিধা চালু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, কুড়িগ্রামে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে জমা করা থেকে বিরত থাকবেন। অবৈধভাবে সার মজুত রাখা কিংবা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় জেলার ৯ উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার নিতে পারবেন কৃষকরা। ফলে, কৃষককে আর ডিলার পয়েন্টে যেতে হবে না। তারা নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকেই প্রয়োজনীয় সার নিতে পারবেন।
সার নিতে আসা সিরাজুল, শাহ আলমসহ কয়েকজন কৃষক জানান, সার নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দিনের আয় রোজগার বন্ধ হয়। খোলাবাজারে সার বিক্রি করা হলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সার পাওয়া যাবে। তখন ভিড়ও হবে না।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিসিআইসি অনুমোদিত একাধিক সার ডিলারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নভিত্তিক ডিলার হওয়ায় একটি ডিলার পয়েন্টে নির্ধারিত কৃষকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সংখ্যক কৃষক সারের জন্য ভিড় করছেন। নির্ধারিত ওয়ার্ডের কৃষকদের সার কেনার দিনে অন্য ওয়ার্ডের কৃষকরাও আসছেন। এতে বরাদ্দ সংকুলান হচ্ছে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। ওয়ার্ডভিত্তিক খুচরা বিক্রির সিদ্ধান্ত এই সমস্যার সমাধান করবে বলে মনে করছেন ডিলাররা।
‘মেসার্স এম এ গফুর’ নামে সার ডিলারের প্রতিনিধি রিমন বলেন, “সারের কোনো সংকট নেই, বরং এবার বরাদ্দ অনেক বেশি। কিন্তু এক ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কারণে সব কৃষক ভিড় করেন। তখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এখন ওয়ার্ডভিত্তিক খুচরা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই সমস্যা থাকবে না।”
একই উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের সার ডিলার শাহীন আহমেদ জানান, ‘বরাদ্দ ঠিক আছে। যে কৃষকের যতটুকু সারের প্রয়োজন, তারচেয়ে বেশি নিতে আসে। আবার কেউ কেউ বারবার সার নেন। ওয়ার্ডভিত্তিক সার বিক্রির সিদ্ধান্তে আর এ পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।’
কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের সার না পাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আমন ধানে ইউরিয়া সার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা শেষপর্যায়ে। আসছে রবি মৌসুমে ভূট্টা ও আলু এবং শীতকালীন সবজি চাষকে সামনে রেখে অক্টোবর-নভেম্বরে আরও বরাদ্দ বাড়ানো হবে। এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হওয়ার কথা বলেছে কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ জেলায় সারের সংকট নেই। এলাকাভিত্তিক মাসিক চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সার সংকটের গুজবে কান দিয়ে কৃষকরা রবি মৌসুমের আগাম মজুতের জন্য সার কেনার চেষ্টা করছেন। কৃষকরা ভাবছেন, হয়ত ভুট্টা কিংবা আলু চাষে সারের সংকট হতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত সার কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। সার সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। রবি মৌসুমকে সামনে রেখে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে বরাদ্দ আরও বাড়বে।’
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘এ জেলায় সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে। ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ কমাতে কৃষি বিভাগের তালিকাভুক্ত খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিক্রি শুরু করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সহজে খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাবেন। এ বিষয়গুলো দেখভাল করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সময়ের আলো/মহু