এনআইডি সংশোধনের নামে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

রেজাউল করিম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

সারাদেশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ বাণিজ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি তার ঘুষ নেওয়ার

2026-09-14T02:53:52+00:00
2026-09-14T02:53:52+00:00
 
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
এনআইডি সংশোধনের নামে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য
রেজাউল করিম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৩ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ বাণিজ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি তার ঘুষ নেওয়ার একটি গোপন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। 

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচন কর্মকর্তা তার চেয়ারে বসে একজন প্রবাসীর নতুন ভোটার আইডি করে দেওয়ার কথা বলে ঘুষের টাকা গ্রহণ করছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভুক্তভোগী রাসেল মোল্লা বলেন, আমি বাহরাইন প্রবাসী। ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। আগে আমার কোনো ভোটার আইডি ছিল না। আমি ২০১৩ সালে জন্মনিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশ গিয়েছি। সম্প্রতি আমি নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম আমার কাছে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি তাকে বহু কাকুতি-মিনতি করে ২ হাজার টাকা দিই। 

রাসেল মোল্লা আরও বলেন, আমি ব্রেন টিউমারের রোগী। এ কথা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলার পরও তিনি নানা অজুহাতে আমাকে তিন-চার দিন ঘুরিয়েছেন। পরে টাকা দিতে রাজি হলে তিনি আমার ভোটার আইডি করে দেন। শুধু আমি নই, কোনো ব্যক্তিই নির্বাচন অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পায় না। এই অফিসের প্রতিটি লোক ঘুষ খায়। টাকা না দিলে খুবই দুর্ব্যবহার করে। আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে এই অসৎ ও দুর্নীতিবাজ নির্বাচন কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

এ নিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, আমি নির্বাচন অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন বলেন, ঘুষ নেওয়ার বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়েছি। খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম শাহ বলেন, খবিরুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে। খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অফিস কর্তৃপক্ষ দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নির্বাচন অফিসে বছরের পর বছর ধরে চলা কর্মকর্তার নানাবিধ অনিয়ম, অপকর্ম ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় ভুক্তভোগীরা নির্বাচন কর্মকর্তার বিচার দাবি করেন। কেউ বলছেন, নির্বাচন অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। টাকা না দিলে নানা টালবাহানায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তুলনায় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের লম্বা একটা তালিকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

তালিকা এমন যা বেশিরভাগ সেবাপ্রত্যাশীর পক্ষে ম্যানেজ করা দুরূহ। মাসের পর মাস ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলে না। অথচ দালাল ধরে টাকা দিলে সেবা মেলে। যেকোনো বড় সমস্যা মুহূর্তের মধ্যে সমাধান হয়ে যায়। তখন আর কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় না।


কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন কর্মকর্তার যোগসাজশে দালান চক্রের মাধ্যমে এই ঘুষ বাণিজ্য চলে। এই চক্রের বেশিরভাগ সদস্য স্থানীয় কম্পিউটার দোকানদার। এদের  হাতে টাকা দিলেই তা মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে। 

ফলে নতুন ভোটার আইডি করে দেওয়া, আইডি কার্ডে নামের ভুল বানান সংশোধন করা, পিতা ও মাতার নাম সংশোধনসহ যাবতীয় কাজ সহজেই হয়ে যায়। একেকটি কাজে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, আমি জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার আইডি করেছি। এই অফিসের কেউ টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। তিনি আরও বলেন, আপনি টাকা দেবেন কাজ হবে। আপনি  টাকা না দিলে আপনাকে আইনের প্যাঁচে ফেলে মাসের পর মাস ঘোরাবে।

এদিকে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি এখনও বহাল তবিয়তে নিজ কর্মস্থলে রয়েছেন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   এনআইডি  সংশোধন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: