বিএনপি অসাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যহীন সাম্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী শ্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পাবনার হিমায়িতপুর সৎসঙ্গ আশ্রমে মানবতার সাধক শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মহোৎসবের দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার ভক্ত ও অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক দল। বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় দলটি। এ কারণেই বিগত সংসদ নির্বাচনে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ একজোট হয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো। বিগত পতিত সরকার নোংরামি ও নানা অপচেষ্টার মাধ্যমে সেই সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তবে আমাদের সরকার এ সংস্কৃতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। পাবনা সংস্কৃতিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি জেলা। পাবনাসহ সমগ্র দেশের সংস্কৃতিকে কীভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায়, তা বর্তমান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। আমরা বৈচিত্র্যময় এই দেশে সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বাণী ও শিক্ষা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মগ্রন্থের মূল কথা মানবকল্যাণ। ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের উপদেশের মূল উদ্দেশ্যও ছিল মানবকল্যাণ। তিনি জাতপাতের ভেদাভেদে বিশ্বাস করতেন না; সারাজীবন মানবতার জয়গান গেয়েছেন। এ কারণে উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুরাগী রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের মহৎ আদর্শ ও মহানুভবতা আজও মানুষের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ধর্ম, বর্ণ ও রাজনীতির পার্থক্য অতিক্রম করে তিনি সবাইকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কোনো বিভেদ বা বিভাজন চান না; তিনি সবার মধ্যে ঐক্য দেখতে চান।
সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় আশ্রমের সভাপতি শ্রী প্রাণশঙ্কর দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকারসহ অনেকে।
সময়ের আলো/জোই