মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় সরকারকে বাধ্য হয়ে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও আমদানি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২০৫ টাকা হলেও দাম সমন্বয়ের আগে দেশে তা বিক্রি হচ্ছিল ১১৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটারে ৯০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল। নতুন দামেও সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করি জনগণ এটি বুঝতে সক্ষম হবে। তবে আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, এর অভিঘাত কতটুকু সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরগুলোতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে করে জনগণের ওপর প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।
আশেপাশের দেশগুলোর জ্বালানি তেলের বাজারদর তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দাম বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে ভারতে (কলকাতায়) প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮.৫৩ টাকা ও পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাতে, যা আমাদের সাধারণ মানুষ দুবাই বলে চেনে, সেখানেও ডিজেলের মূল্য ১৪৪.৭৯ টাকা।
তিনি বলেন, দাম সমন্বয় না করলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রয়োজন হতো, যা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চাপ তৈরি করত।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, কম দামে জ্বালানি বিক্রি অব্যাহত থাকলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকিও বাড়ছিল। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সময়ের আলো/এমকে