ফিফা আসিয়ান কাপের মিশনে বাংলাদেশ এখন ইন্দোনেশিয়ায়। দেশে প্রায় এক মাসের ক্যাম্প করলেও পূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে অনুশীলনের সুযোগ হয়নি কোচ টমাস ডুলির। হামজা চৌধুরী, শামিত সোম ও প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ফারহান আলী ওয়াহিদ ছিলেন অনুপস্থিত। তবে ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে প্রথম অনুশীলনেই তিনজনকে সঙ্গে পেয়েছেন ডুলি।
মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। সেখানেই পূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান কোচ। দেশে ক্যাম্পের সময় দলের সঙ্গে না থাকা তিন ফুটবলার সরাসরি ইন্দোনেশিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন কোচ ডুলি।
তবে পূর্ণ দল পাওয়ার স্বস্তির সঙ্গে প্রস্তুতির সময় নিয়ে কিছুটা আক্ষেপও রয়েছে বাংলাদেশ কোচের। প্রথম ম্যাচের আগে পুরো স্কোয়াডকে একসঙ্গে নিয়ে অনুশীলনের জন্যে হাতে থাকছে মাত্র দুই থেকে তিন দিন। ‘সবাই উপস্থিত থাকায় আমরা ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারছি। আজকের সেশনটি ভালো হয়েছে। তবে প্রথম ম্যাচের আগে পুরো স্কোয়াড নিয়ে প্রস্তুতির জন্য মাত্র দুই-তিন দিন সময় পাওয়াটা কিছুটা দুঃখজনক। নতুন খেলোয়াড়দের একে অপরকে চিনতে হবে এবং দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’
নতুনদের নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে বাংলাদেশ কোচকে। দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এর আগে হামজা, শামিত ও ফাহাদের সঙ্গে খেলেননি। ফলে নতুনদের সঙ্গে পুরোনোদের সমন্বয় তৈরি করাই এখন অনুশীলনের অন্যতম লক্ষ্য। মাঠ ও অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্ট ডুলি। ‘মাঠ ও সুযোগ-সুবিধাগুলো দারুণ। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আমরা এখানকার পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট।’
তবে দলের জন্যে কিছুটা দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে আছে মোসালিনের চোট। কাফ মাসলের সমস্যায় ভুগছেন এই ফুটবলার। তার সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দল। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কয়েক মাস পর সতীর্থদের সঙ্গে একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে বলে জানিয়েছেন শামিত সোম। নতুনদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো অনুশীলন করেও মুগ্ধ তিনি।
‘কয়েক মাস পর সবার সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে পেরে এবং সবাইকে শার্প অবস্থায় দেখে ভালো লাগছে। নতুন খেলোয়াড়রা দলে যোগ দেওয়ায় তাদের সঙ্গে প্রথমবার অনুশীলন করলাম। তারা গ্রুপে নতুন কিছু যোগ করেছে। এতে স্কোয়াডের মান ও নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।’
ম্যাচের আগে হাতে থাকা দুই দিনকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ দলের এই মিডফিল্ডার। ‘ম্যাচডের আগে আমাদের আর দুই দিন আছে। এই সময়টুকু ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। অনুশীলনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ভালো ঘুমও দরকার। সবাই মিলে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।’
বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করে মাঠে নামতে হবে ডুলির দলকে। আসিয়ান কাপের এই মঞ্চকে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন খেলোয়াড়রা। ‘আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই। বাংলাদেশের জন্য ভালো করা, ম্যাচ জেতা এবং ভালো ফুটবল খেলা।
এটি ফিফার একটি বড় ইভেন্ট। উচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলার সামর্থ্য আমাদের আছে, সেটি প্রমাণ করার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।’
দেশে দীর্ঘ ক্যাম্পের পর অবশেষে ইন্দোনেশিয়ায় পূর্ণ স্কোয়াড হাতে পেয়েছেন ডুলি। এখন নতুন-পুরোনোদের সমন্বয়, মোসালিনের চোটের পরিস্থিতি এবং সীমিত প্রস্তুতির সময়। সবকিছু সামলে ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নামতে হবে বাংলাদেশকে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি