ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানাবেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
আল-শারা বলেছেন, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আল-শারা অভিযোগ করেন, সিরিয়ায় ইসরায়েল প্রায় ৫০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে, ১ হাজার ২০০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে এবং প্রায় ৩০০ জনকে আটক করেছে। তিনি এসব হামলা বন্ধ করে সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং ১৯৭৪ সালের চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সিরিয়ায় কোনো পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া পরিস্থিতি বা আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশের পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
আল-শারা বলেন, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ‘সংকট থেকে সম্ভাবনার’ দিকে এগোচ্ছে। দেশটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মাদক পাচার মোকাবেলায় কাজ করছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের কথাও বলেন তিনি।
প্রায় ১০ মিনিটের ভাষণে আল-শারা বলেন, সিরিয়া পুনর্গঠন অব্যাহত রাখবে এবং দেশের মানুষের মর্যাদা ফিরিয়ে আনবে। গত বছর তার বার্তা ছিল—‘সিরিয়া ফিরে এসেছে’ এবং এবার তিনি বলছেন— ‘সিরিয়া উঠে দাঁড়াচ্ছে’।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, আল-শারা ও ট্রাম্পের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বন্ধে ট্রাম্প সিরিয়ার আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ