চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বুধবার ওয়াশিংটনে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের এই সফরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ইরান ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই নেতার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই দুই দেশ চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
প্রায় তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা শি জিপিংকে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান ট্রাম্প। সেখানে দুই নেতা ও তাদের স্ত্রীরা করমর্দন করেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন। এ সময় সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে, তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং একটি বি-১ সামরিক বোমারু বিমান ওপর দিয়ে উড়ে যায়।
সিএসপ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ১১ বছর পর প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে বিদেশি কোনো নেতাকে স্বাগত জানালেন। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
শি জিনপিং এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।’ তার এই বিবৃতিতে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশ ১১ মাসের বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, নতুন চুক্তির আওতায় বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এর আগের মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০২৫ সালের শুল্কযুদ্ধের পর বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তীব্র হয়। ওই সময় দুই দেশের পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। নতুন সমঝোতা বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিরল খনিজ ও কম্পিউটার চিপের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, ইরানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এবং তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন— এসব বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুই নেতার বৈঠকে নির্দিষ্ট কিছু খাতে শুল্ক কমানো, মাদক পাচার রোধে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। চীনে আটক কিছু মার্কিন নাগরিক ও অন্যদের মুক্তির বিষয়টিও ট্রাম্প তুলতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশ আরও আলোচনায় সম্মত হতে পারে। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
শি জিনপিংয়ের সফরে বৃহস্পতিবার প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অ্যাপলের টিম কুক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং ও ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তি খাতের নেতারা অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসে সামরিক অনুষ্ঠান এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ