গাজায় খাদ্যসংকটে বাড়ছে জোরপূর্বক বিয়ে, বিক্রি হচ্ছে মেয়েরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, বাস্তুচ্যুতি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার মধ্যে গাজায় নারী ও কিশোরীদের জোরপূর্বক ও বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে

2026-09-24T17:57:24+00:00
2026-09-24T17:57:24+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
গাজায় খাদ্যসংকটে বাড়ছে জোরপূর্বক বিয়ে, বিক্রি হচ্ছে মেয়েরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম 
গাজায় খাদ্যসংকটে বাড়ছে জোরপূর্বক বিয়ে, বিক্রি হচ্ছে মেয়েরা
যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, বাস্তুচ্যুতি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার মধ্যে গাজায় নারী ও কিশোরীদের জোরপূর্বক ও বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)।

সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে কিছু পরিবার খাবার ও বেঁচে থাকার প্রয়োজন মেটাতে মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে চাপের মুখে পড়ছে। এমনকি যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের সামাজিক কলঙ্ক থেকে রক্ষা করার নামে অভিযুক্ত ধর্ষণকারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নথিভুক্ত জোরপূর্বক ও বাল্যবিয়ের ঘটনা আগের তিন মাসের তুলনায় ১২৩ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি এই বৃদ্ধিকে পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

খাবারের বিনিময়ে মেয়েদের বিয়ে

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গাজায় বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তীব্র খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য, আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে পরিবারগুলো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

ইউএনএফপিএ ১০টি সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং গাজা সিটি ও খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুত শিবিরে বসবাসকারী ২৩০ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

খান ইউনিসে সাক্ষাৎকার দেওয়া এক নারী জানান, গত বছরের দুর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তি তাঁর ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে দুই বস্তা আটার বিনিময়ে বিয়ে করেন। এর মাধ্যমে ওই পরিবার নিজের ও অন্যান্য সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে পেরেছিল বলে জানান তিনি।

আরও ছয়জন নারীও বিভিন্ন বাস্তুচ্যুত শিবিরে একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, যুদ্ধের আগে এমন পরিস্থিতি তাদের কাছে অকল্পনীয় ছিল।

যৌন সহিংসতার শিকার নারীরাও ঝুঁকিতে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কাও তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

একটি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে— এমন জায়গায় সাক্ষাৎকার দেওয়া এক নারী জানান, ধর্ষণের শিকার নারীদের সামাজিক কলঙ্ক এড়ানোর জন্য কখনও কখনও অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গেই তাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ওই নারী দাবি করেন, আশ্রয়কেন্দ্রে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরের দিনই সেখানে বিয়ে ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান হতে দেখেছেন তিনি।

এতিম কিশোরীরাও বেশি ঝুঁকিতে

যুদ্ধে বাবা-মাকে হারানো কিশোরীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ছে। গাজা সিটির একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে সাক্ষাৎকার দেওয়া এক নারী জানান, বাবা-মা নিহত হওয়ার পর তার পরিবারের ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়েকে তাদের চাচারা বিয়ে দিয়ে দেন।

ইউএনএফপিএ বলছে, গাজায় বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ের এই প্রবণতাকে সামগ্রিক মানবিক বিপর্যয়ের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে নারী ও শিশুদের সুরক্ষার প্রচলিত ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।


ফিলিস্তিনে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি নেস্টর ওউমুহাঙ্গি পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউএনএফপিএর হিসাবে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদের বাল্যবিবাহের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে গাজায় বাল্যবিবাহের হার পশ্চিম তীরের তুলনায় বেশি হলেও তা ধীরে ধীরে কমছিল। যুদ্ধ শুরুর পর সেই অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

যৌন সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নথিভুক্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ২ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা। এর আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ।

একই সময়ে নথিভুক্ত যৌন সহিংসতার মোট ঘটনাও ৬১ শতাংশ বেড়েছে।

তবে ইউএনএফপিএ সতর্ক করেছে, নথিভুক্ত এসব সংখ্যা গাজায় যৌন সহিংসতার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। সামাজিক লজ্জা, প্রতিশোধের ভয় এবং নিরাপদ ও গোপনীয়ভাবে অভিযোগ জানানোর সীমিত সুযোগের কারণে অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না।

শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এরপর রয়েছে কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।



সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   গাজা  খাদ্যসংকট  বাল্যবিয়ে  জোরপূর্বক বিয়ে 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: