জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর এবার অস্বাভাবিকভাবে সংক্ষিপ্ত। নিউইয়র্কে আট ঘণ্টারও কম সময় অবস্থান করে ইসরায়েলে ফেরার কথা রয়েছে তার। সফরসূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকেরও উল্লেখ নেই।
গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের সফর করেছিলেন নেতানিয়াহু। সে সময় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছিল তার। এবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার সফর এবং কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক না থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দপফতর জানিয়েছে, সফরে তিনি নয়জন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, পানামা ও ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং কলম্বিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। গ্রিস, স্লোভেনিয়া ও পাপুয়া নিউগিনির প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মিত্র দেশের সম্পর্ক গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ইসরায়েল গুরুত্ব দিচ্ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক না হওয়া নিয়ে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক ছাড়া কোনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঘটনা তার মনে পড়ে না। তার মতে, ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক না হওয়া নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচক হতে পারে।
ওরেন বলেন, জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ অনেকটা নির্বাচনি প্রচারের বক্তব্যের মতো হবে। তবে এর সঙ্গে ট্রাম্প, অন্য কোনো বিশ্বনেতা কিংবা অন্তত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থাকলে সেটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, সফরে তার সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন অনেক বিশ্বনেতা। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা এবং ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুক্কত শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলে ফেরার প্রয়োজন থাকায় তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করা সম্ভব হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আটবার সাক্ষাৎ হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠক হয় জুলাইয়ে।
ইরান যুদ্ধেও মতপার্থক্য
ইরান যুদ্ধ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে দুই দেশ সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরে ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়, যার বিরোধিতা করেছিল ইসরায়েল। কয়েক সপ্তাহ পর সেই সমঝোতাও ভেঙে যায়।
এদিকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন কমেছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। একই সময়ে গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের কারণে ইসরায়েল ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
এদিকে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনি অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে তার পরাজয়ের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও তাকে এখনই রাজনৈতিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
সময়ের আলো/জেডি