নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের কাজে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই প্রকৌশলীকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবের হাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর। মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর হাত বদল হয়ে মো. ফরহাদ নামে একজন ঠিকাদার কাজটি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই ব্রিজটির কাজে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ দেওয়ার পর কিছু কিছু কাজ সংশোধন করা হয়। তবে, শেষের দিকে রাতের অন্ধকারে ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিও তার ও রেলিংয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কোনোমতে কাজ করে চলে যান ঠিকাদারের লোকজন। দিনে এসব স্ল্যাবে পথচারীদের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে। এছাড়াও, স্ল্যাব ও রেলিংয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহারের কারণে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়তে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি এলজিইডিকে জানালে, ২১ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, আশপাশের ৪ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্রিজটির নির্মাণ কাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি দ্রুত যথাথ নিয়ম মেনে কাজটি শেষ করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে এলজিইডি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা। এ সময় দেখা যায়, ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ নিম্নমানের, যা নকশা ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত। একই সঙ্গে রেলিংয়ের রডের কাজও নিম্নমানের বলে দৃশ্যমান হয়। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে চিঠিতে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে দেওয়া চিঠিতে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণকাজের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। নকশা ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত কোনো কাজের বিল পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মেসার্স হক ট্রেডার্স সত্বাধীকারী মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, কাজটি তার প্রতিষ্ঠান পেলেও মো. ফরহাদ নামে এক ব্যক্তি কাজটি করছেন। ৫ আগষ্টের পর তিনি আমার কাছ থেকে কাজটি নিয়ে গেছেন।
মো. ফরহাদ ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজে কিছু ত্রুটি হয়েছে স্বীকার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে এলজিইডির প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে স্ল্যাব ও রেলিংয়ের যেসব অংশে কাজ ভালো হয়নি, তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে কাজ করে দেওয়া হবে।’
সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকাতে ও উন্নয়ন কাজে গুণগত মান ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সময়ের আলো/মহু